চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মিলনমেলা ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, কেক কেটে উদযাপন আর উল্লাসে মেতে উঠার এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করে আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠী।
আয়োজকরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এই মিলনমেলায় অংশ নিতে উপজেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নে অবস্থানরত আর্জেন্টিনা ভক্তরা ছুটে আসেন। রাঙ্গুনিয়া আদর্শ স্কুল মাঠ যেনো এক খন্ড আর্জেন্টাইন সমর্থকদের গ্যালারি। এরপর আর্জেন্টিনার পতাকা খচিত কেক কাটা, সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে বের করা হয় র্যালি।
সাদা-নীল রঙ ছড়িয়ে উল্লাসে মেতে সকলে একযোগে যাত্রা করে। র্যালিটি স্কুল মাঠ থেকে শুরু করে কলেজ গেট হয়ে কাপ্তাই সড়ক পথে হেটে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা ফটকে গিয়ে শেষ হয়৷ ব্যতিক্রমী এই র্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি, পেশার, বড়-ছোট সবাই আনন্দে মেতে ওঠেন। সবার মুখেই ছিলো বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জয়োধ্বনি আর প্রিয় তারকা লিওনেল মেসিসহ তারকা খেলোয়াড়দের বন্দনা। এবারো মেসির হাতেই উঠবে বিশ্বকাপের ট্রপি এমনটাই প্রত্যাশা আগত সকল আর্জেন্টাইন সমর্থকদের৷
প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান র্যালির শুরুতে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, উম্মাদনা যেন বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কোন ব্যক্তিগত রেশারেশি পর্যায়ে যাতে না যায়। এজন্য সকলকে অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন,আর্জেন্টিনা দলটি একটি পরিপূর্ণ দল। দলে মেসি হলো সর্বকালের সেরা খেলোয়ার। তার ভক্ত না হয়ে সম্ভব না। এ সময়ে সকল ভক্তরা মেসিকে দেখে আর্জেন্টিনার ভক্ত। কয়েক দশক আগে সবাই ম্যারাডোনার খেলা দেখে মুগ্ধ ও ভক্ত ছিল। তিনি আরো জানান, খেলাধুলা শৃংখলার একটি বিষয়। তাই সকল আর্জেন্টাইন ভক্তদের তিনি নেশা ও জুয়া থেকে দূরে থাকার আহবান জানান। সুষ্ঠু বিনোদনের লক্ষে সকলকে খেলা উপভোগ করার কথা স্বরণ করিয়ে দেন।
আলোচনায় অংশ নেন ফায়ার স্টেশনের রাঙ্গুনিয়া স্টেশন কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান, ক্রীড়ানুরাগী আবু নাছের টিপু, মো. রিয়াদ, নাজমুল, রবি, সালাউদ্দিন প্রমুখ।
বিশ্বকাপ উন্মাদনায় মেতেছে পুরো বিশ্ব, তাতে গ্রামেও প্রভাব বিস্তারে এর রেশ প্রত্যন্ত এলাকাতেও এসে পড়েছে। মানুষকে ক্রীড়ামুখী কিংবা যুব সমাজকে খেলামুখী করা গেলে সমাজে মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিংসহ সামাজিক অপরাধমুক্ত করা যাবে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

















