চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দক্ষিণ চট্টগ্রামের অংশ এখন যেন নীরব মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্যস্ততম মহাসড়কে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা। সাতকানিয়া-চন্দনাইশ-পটিয়াতে কোনো ধরনের ট্রমা সেন্টার না থাকায় দুর্ঘটনায় আহতদের অনেকেই সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছেন।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে কোনো দিন বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ, কোনো দিন কাভার্ডভ্যানের ধাক্কা, অটো রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, আবার কোনো দিন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঝরে যাচ্ছে তাজা তাজা প্রাণ। দুর্ঘটনা কবলিত এই মহাসড়কের সাতকানিয়া-চন্দনাইশ-পটিয়ার প্রায় ৪৫ কিলোমিটার সড়কে আজও গড়ে ওঠেনি আধুনিক ট্রমা সেন্টার। জানা যায়, চন্দনাইশ উপজেলা সদর ও দোহাজারী মহাসড়কের পাশে পৃথক পৃথক স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সটি মহাসড়ক থেকে কয়েক কিলোমিটার ভিতরে হলেও পটিয়া উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স মহাসড়কের পাশেই রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ৪৫ কিলোমিটার মহাসড়কের মধ্যে কোথাও এ পর্যন্ত গড়ে উঠেনি আধুনিক ট্রমা সেন্টার। পার্বত্য জেলা বান্দরবান, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের যোগাযোগের প্রধান সড়ক হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এই মহাসড়ক।
এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে থাকে। যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, কনটেইনারবাহী যান, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ভারী পরিবহন একসঙ্গে চলাচল করায়, সড়কটি দিন দিন আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বেপরোয়া গতি, অসচেতনা, ওভারটেকিং এবং যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রু টির কারণে প্রায়ই ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। উপজেলা স্বাস্হ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা বলেছেন, দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় গোল্ডেন টাইম বলা হয়। এই সময়ের মধ্যে আহত ব্যক্তিকে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া গেলে মৃত্যুহার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু ৪৫ কিলোমিটার মহাসড়কের সাতকানিয়া-চন্দনাইশ-পটিয়া অংশে আধুনিক ট্রমা সেন্টার না থাকায়, গুরুতর আহতদের দ্রুত চমেক হাসপাতাল বা নগরীর অন্যান্য হাসপাতালে পাঠাতে হয়। দীর্ঘপথ, যানজট ও সময়ক্ষেপণের কারণে অনেক রোগী চিকিৎসার আগেই মারা যাচ্ছে। স্বাস্হ্যসেবার এই সীমাবদ্ধতার কারণে দুর্ঘটনায় কবলিত অনেকে সময়মতো চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের এ অংশে একটি আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্হাপনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
পূর্বকোণ/রাকিব


















