ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতির বাতাসের শক্তি নিয়ে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’।
গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে এটি উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, আঘাত হানার পর এর গতি আরও কমতে শুরু করেছে। আর এর প্রভাবে বাংলাদেশে যে পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল, তা না–ও হতে পারে। রাজধানীতেও সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলেছে আবহাওয়া অফিস।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি নির্ধারিত সময়ের আগেই দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। ফলে গতকাল দিবাগত রাত দুইটা থেকে আজ ভোর চারটার মধ্যেই এটি স্থলভাগে আঘাত হানতে শুরু করে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্র প্রদেশের বাপাতলা এবং বিশাখাপট্টনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করবে।
উপকূলের নিচু এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের কারণে দুই রাজ্যে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ঝড়ের সময় উপকূলের নিচু এলাকাগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে ১ থেকে দেড় মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছিল আবহাওয়া বিভাগ।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব অন্ধ্র প্রদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। ঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিখ্যাত দিঘা সমুদ্রসৈকতে বঙ্গোপসাগর ভয়ংকর উত্তাল রূপ ধারণ করেছে এবং সৈকতজুড়ে প্রচণ্ড বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে অর্ণবের বড় কোনো প্রভাব পড়ার ঝুঁকি নেই। তবে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বুধবার দেশের আট বিভাগেই কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এরপর বৃহস্পতিবার শনিবার পর্যন্ত সময়ে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ঢাকা, খুলনা, বরিশালসহ অন্যান্য বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। তারপর বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসতে পারে।
পূর্বকোণ/মিফতা



















