সবার অপেক্ষা তখন সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরির। জাদুকরী তিন অঙ্ক থেকে মাত্র ৪ রান দূরে অভিজ্ঞ বাঁহাতি ওপেনার। তখনই বাঁধ সাধল প্রকৃতি। আলোক স্বল্পতায় বন্ধ হয়ে গেল খেলা। ৫৩ মিনিট পরে খেলা শুরু হলে ৪ ওভারের বেশি খেলা হয়নি। এই ৪ ওভারে আরও ৩ রান যোগ করে শতকের আরও কাছে যান সাদমান।
আলোকস্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে গেছে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের খেলা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম দিনে ৭৪ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২০৭ রান। নিজের সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৯৯ রানে অপরাজিত সাদমান।
দিনের শুরুতে এক দুঃসংবাদ পায় বাংলাদেশ। আগের দিন অনুশীলনে পাওয়া চোটের কারণে একাদশ থেকে ছিটকে যান মুশফিকুর রহিম। বদলি হিসেবে সুযোগ পান তাওহিদ হৃদয়।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটাও তেমন ভালো ছিল না বাংলাদেশের। জেডেন সিলসের বলে ইনিংসের সপ্তম ওভারে খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান তামিম।
শুরুর ধাক্কা সামলে ইতিবাচক ব্যাটিং করতে থাকেন সাদমান ও মুমিনুল হক। দুজন মিলে গড়ে তোলেন ৫৯ রানের জুটি। এরপর জোমেল ওয়ারিকানের বলে অহেতুক ক্রিজ ছেড়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন মুমিনুল।
প্রথম সেশনে আর উইকেট পড়তে দেননি সাদমান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। মধ্যাহ্ন বিরতির পর ফিরে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের দশম ফিফটি পূর্ণ করেন বাঁহাতি ওপেনার।
এরপর ওয়ারিকানের ফুল লেংথ ডেলিভারিতে প্যাডল সুইপ করতে গিয়ে ব্যাটে লাগাতে পারেননি শান্ত। বল প্যাডে লাগার পর জোরাল আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ককে ফেরায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
১১০ রানে ৩ উইকেট হারানো দলের হাল ধরেন সাদমান ও হৃদয়। দ্বিতীয় সেশনে আর উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। মুশফিকের চোটে সুযোগ পেয়ে দারুণ ব্যাটিংয়ে ফিফটির সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলেন হৃদয়।
কিন্তু এর মাঝেই আসে চোটের ধাক্কা। চা বিরতির পর বাম পায়ের হাঁটুর নিচের পেশিতে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন হৃদয়। প্রাথমিক শুশ্রূষা নিয়েও উঠে দাঁড়াতে পারেননি তিনি।
পরে স্ট্রেচারে চড়ে মাঠ ছাড়েন ৮৪ বলে ৪২ রান করা হৃদয়।
নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে যান লিটন কুমার দাস। তাকে নিয়ে ধীরেসুস্থে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান সাদমান।
পূর্বকোণ/প্রান্ত


















