কিলিয়ান এমবাপের বিতর্কিত মন্তব্যের পর জল গড়িয়েছে অনেক দূর। ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ডের সেই মন্তব্যে কারণে তৈরি হওয়া উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা প্রকাশ করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
এর আগে এমবাপে নিজেই চীনা জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। চীনে বাণিজ্যিক স্পন্সরশিপ এবং লা লিগার ম্যাচ সম্প্রচারে এই সংকটের প্রভাব পড়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্লাব ও খেলোয়াড় উভয়েই এই পদক্ষেপ নেয়।
এমবাপে ও চীন সংকট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের বিবৃতির বলা হয়েছে, আমাদের খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কারণে চীনা জনগণের মনে যে আঘাত লেগেছে, তার জন্য রিয়াল মাদ্রিদ আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিলিয়ান এমবাপের করা জনসমক্ষে ক্ষমা প্রার্থনার সঙ্গে ক্লাবও একাত্মতা প্রকাশ করছে। রিয়াল মাদ্রিদ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান এবং সংস্কৃতির মধ্যে মেলবন্ধনের মূল্যের প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করছে এবং চীন ও এর নাগরিকদের সাথে বন্ধুত্বের বন্ধন ও ভালোবাসাকে আরও দৃঢ় করার ইচ্ছা প্রকাশ করছে।
এমবাপের নিজের দেওয়া বিবৃতিতে বলেছেন, তাঁর মন্তব্যটি যথাযথ ছিল না। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি বুঝতে পেরেছেন তাঁর কথাগুলো চীনে এবং বিশ্বজুড়ে থাকা চীনা সম্প্রদায়ের বহু মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
এমবাপে বলেন, আমার কথাগুলো যাদের মনে কষ্ট দিয়েছে, আমি তাঁদের সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, কারণ এটি মোটেও আমার উদ্দেশ্য ছিল না। আমি চীনা জনগণ এবং তাদের ইতিহাসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রাখি এবং আমার এই ভুলের জন্য আন্তরিক অনুশোচনা প্রকাশ করছি।
সবকিছুর শুরু হয় একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে। যেখানে এমবাপে তাঁর চেহারার আদলে তৈরি ব্যঙ্গাত্মক ছবিগুলো নিয়ে কথা বলেন। ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ড উল্লেখ করেন, এর মধ্যে তাঁর কাছে সবচেয়ে মজার লেগেছিল একটি কম্পোজিট বা এডিটেড ছবি, যেখানে তাঁর মুখাবয়ব এমন একজন ব্যক্তির শরীরে বসানো হয়েছিল যাকে তিনি ‘চীনা একনায়ক’ বলে মনে করেন।
এই ঘটনা চীনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং এমবাপের বিরুদ্ধে জাতীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া একটি বিতর্ক খুব দ্রুতই স্পন্সরশিপ এবং ক্রীড়া সম্প্রচার চুক্তির মতো বড় সংকটে রূপ নেয়।
পূর্বকোণ/প্রান্ত



















