জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ম্যাচ শেষে ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরার পথে লাগেজ চুরির ঘটনার শিকার হয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটার।
ঢাকা থেকে ক্রিকেটাররা বিমানে রাজশাহী পৌঁছেন। তবে ৫৪টি লাগেজ পাঠানো হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাভার্ড ভ্যানে। গত বুধবার রাজশাহীর হোটেলে নামানোর সময় এসব লাগেজের মধ্যে আটটি পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় রাজপাড়া থানায় জিডি করেন দুই ক্রিকেটার মোহর শেখ ও এস এম মেহেরব হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে রাজশাহী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া বেশির ভাগ মালপত্র।
তবে ক্রিকেটার মেহেরব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার তিন লাখ টাকা এখনো উদ্ধার করা যায়নি। আর বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির ম্যানেজার আবু ইমাম মোহাম্মদ কায়সার জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন বাকি মালপত্র উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর এলাকায় বুধবার আনুমানিক ভোর ৫টায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। লাগেজ বহনকারী চলন্ত কাভার্ড ভ্যানের পিছু নেওয়া একটি মোটরসাইকেল থেকে ভ্যানে লাফিয়ে উঠে এক ব্যক্তি দরজার তালা ভেঙে নামিয়ে নেন আটটি লাগেজ।
ক্রিকেটারদের অভিযোগের পর ডিবি পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার চামটা গ্রামের মোজাম্মেল হক (৩২), পুঠিয়া উপজেলার গণ্ডগোহালী জামতলা গ্রামের সোহান রহমান (২৩), বারইপাড়া গ্রামের রুবেল আহমেদ (৩৮) ও তারাপুর গ্রামের শাহাদত হোসেন (৫২)।
পুলিশ জানিয়েছে, মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে রাজশাহীতে দুটি, টাঙ্গাইলে দুটি ও নাটোরে একটি চুরির মামলা রয়েছে। এ ছাড়া সোহান ও রুবেলের বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় একটি করে মামলা রয়েছে।
এনসিএলের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষে বুধবার সকালে ঢাকা থেকে আকাশপথে রাজশাহীতে ফেরে বিভাগীয় ক্রিকেট দল। আর বিসিবির ভাড়া করা কাভার্ড ভ্যানে দলের ৫৪টি লাগেজ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
পথে চুরির ঘটনা ঘটে এবং আরেকটি গাড়ির চালক বিষয়টি কাভার্ড ভ্যানচালক সজীবকে জানান। তিনি গাড়ি থামিয়ে দরজার তালা ভাঙা ও দরজা খোলা দেখতে পান। পরে হোটেলে লাগেজ নামানোর সময় দেখা যায়, দলের ৫৪টি লাগেজের মধ্যে ৪৬টি রয়েছে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় চোরের দলটিকে শনাক্ত করে জেলা ডিবি পুলিশ। এরপর গতকাল ভোরে পুঠিয়ার তারাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় চারজনকে। মালপত্রগুলো উদ্ধার করা হয় গ্রেপ্তারকৃত শাহাদত হোসেনের বাড়ি থেকে।
উদ্ধার করা মালপত্রের মধ্যে রয়েছে একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, ৩০০ মার্কিন ডলার, একটি ম্যাসাজ বেড, একটি ল্যাপটপ, চারটি প্লাস্টিকের বাক্স ও আট হাজার টাকা। এ ছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত তালা ভাঙার সরঞ্জাম ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুঠিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে রাজশাহী বিভাগের অলরাউন্ডার মেহেরব দাবি করেছেন, তার তিন লাখ টাকা এবং অনেকেরই বেশ কিছু মালপত্র এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘কিছু পাওয়া গেছে, এখনো পাওয়া যায়নি বেশ কিছু মালপত্র। আমি নিজের সবকিছুই পেয়েছি, শুধু টাকাটা ছাড়া।’
তিনি আরো জানান, পাঁচজনের মালপত্র হারালেও তিনজন পেয়েছেন, বাকিদের জিনিসপত্র পাওয়া যায়নি। তবে তিনি বলেন, ‘বিসিবি থেকে এ বিষয়ে খুবই আন্তরিকতা দেখিয়েছে এবং সম্পূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে।’
বিষয়টি নিয়ে বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির ম্যানেজার আবু ইমাম মোহাম্মদ কায়সার বলেন, ‘প্রায় সবকিছুই উদ্ধার করা হয়েছে। পাঁচজনের মতো গ্রেপ্তার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে আমাদের। আর সামান্য কিছু মালপত্র উদ্ধারের বাকি আছে। স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। সবকিছু উদ্ধারের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’
পূর্বকোণ/ইবনুর


















