মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) অনন্য আরেকটি কীর্তি গড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সান দিয়েগো এফসির বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ২-২ ড্রয়ের ম্যাচে চোখধাঁধানো এক ফ্রি-কিকে পেশাদার ক্যারিয়ারের ৭৫তম ফ্রি-কিক গোল ও চলতি মৌসুমে নিজের ২০তম গোলটি তুলে নিয়েছেন লিওনেল মেসি।
এই গোলের মাধ্যমে এমএলএসের ইতিহাসে টানা তিন মৌসুমে ২০ বা তার বেশি গোল করা দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে নাম লেখালেন মেসি। তার আগে এলএএফসির ডেনিস বুয়াঙ্গা (২০২৩–২৫) এই কীর্তি গড়েছিলেন।
চলতি মৌসুমে ২০টি গোল এবং ১৩টি অ্যাসিস্ট, সব মিলিয়ে ৩৩টি গোলে সরাসরি অবদান রেখে এমএলএস গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে সবার ওপরে আছেন মেসি। লিগে এখনও নিয়মিত মৌসুমের ৮টি ম্যাচ বাকি থাকতে প্রথম ফুটবলার হিসেবে রেকর্ড তিনবার ‘ল্যান্ডন ডোনোভান এমএলএস’ এমভিপি পুরস্কার জেতার জোরালো দাবিদারও ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি।
অবশ্য মেসির দুর্দান্ত রেকর্ড মায়ামির জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারানোর ফলে নিয়মিত মৌসুমে আরও ৮টি ম্যাচ বাকি থাকতেই টেবিলের শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে ১১ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়ল মায়ামি।
ম্যাচের ১২ মিনিটে ডেনমার্কের তারকা ড্রেইয়ারের গোলে হঠাৎ করেই লিড নেয় সান দিয়েগো।
তবে এই ধাক্কার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ও বলের দখল পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় মায়ামি। ম্যাচের ২৪ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে মায়ামিকে সমতায় ফেরান লিওনেল মেসি।
মেসির ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া তাঁর নিখুঁত বাকানো শটটি বক্সের ভেতর দিয়ে ইনসাইড পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। এটি ক্যারিয়ারের ৭৫তম ফ্রি–কিক গোল ও পেশাদার ক্যারিয়ারের ৯৩০তম গোল এই কিংবদন্তির।
সমতায় ফেরার পর সান দিয়েগোর গোলবারে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে মায়ামি, মনে হচ্ছিল তাদের এগিয়ে যাওয়া স্রেফ সময়ের ব্যাপার। মেসি, লুইস সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো দে পল প্রত্যেকেই দারুণ কিছু সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু সান দিয়েগোর রক্ষণ কোনোমতে সে যাত্রায় বেঁচে যায়।
অবশেষে ৭৪ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় মায়ামি। ডি-বক্সের সামনে দে পলের চতুর পাস থেকে বল পেয়ে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন ৩৯ বছর বয়সী উরুগুয়ান সুয়ারেজ (২-১)।
ম্যাচ শেষ ১০ মিনিটে গড়ালে মনে হচ্ছিল এই গোলই জয়ের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু প্রথম গোলের মতোই হুবহু আরেক গোল করে স্বাগতিক সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেয় সান দিয়েগো। আবার সেই টোভার্সকভের পিনপয়েন্ট পাস ধরে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে ড্রেইয়ার (২-২)।
ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল সান দিয়েগো। তবে কিয়ারান সার্জেন্টের জোরালো শট দারুণভাবে রুখে দিয়ে মায়ামিকে নিশ্চিত হারের হাত থেকে রক্ষা করেন গোলকিপার সেন্ট ক্লেয়ার।
পূর্বকোণ/প্রান্ত
















