দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার আশঙ্কা কম থাকলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) আবহাওয়া সম্পর্কিত বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এদিন সকাল ৬টায় লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুনির্দিষ্ট লঘুচাপটি শনিবারের মধ্যেই নিম্নচাপে এবং পরবর্তী এক-দুই দিনের মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এটি আবহাওয়ার পরিস্থিতি ও মডেল বিশ্লেষণ অনুযায়ী ২৭ বা ২৮ অক্টোবরের দিকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার একটি সম্ভাবনা রয়েছে।”
আগামী তিন থেকে চার দিন এটি আরও শক্তিশালী হতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে অতিক্রম করার সম্ভাবনা বেশি। ফলে বাংলাদেশের ওপর সরাসরি বড় কোনো ঝড়ের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম হলেও, এটি স্থলভাগের দিকে এগিয়ে উত্তরে অগ্রসর হলে এর প্রভাবে দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগগুলোতে—যেমন রংপুর, রাজশাহী ও খুলনায় বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এ আবহাওয়াবিদ বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখানো হতে পারে। এছাড়া বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে ঘূর্ণিঝড়ের আগাম বৃষ্টি হলে কৃষকদের আলু, পেঁয়াজসহ শীতকালীন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সুস্পষ্ট লঘুচাপ থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের শনিবারের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, এদিন সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এই সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
পূর্বকোণ/মিফতা


















