তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি একটি যুগ, ফুটবল ইশ্বরের রচিত এক জীবন্ত মহাকাব্য। দীর্ঘ ২১ বছরের এক অবিশ্বাস্য ও অবর্ণনীয় পথচলার সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবল।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় ৭ অক্টোবর ভোর ৫:০০ টা আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক এস্তাদিও মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামছেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।
আফ্রিকান দেশ বেনিনের বিপক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ প্রীতি ম্যাচটি কেবল একজন কিংবদন্তির বিদায় সংবর্ধনাই নয়, বরং ক্রীড়া বিনোদনের বৈশ্বিক মানদণ্ডেও এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করতে যাচ্ছে। বুয়েনস আইরেসের ৮৫,০০০ দর্শকধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ম্যাচের উপস্থিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসর সুপার বোল ২০২৬-এর ৭০,০০০ দর্শকের রেকর্ডকে ইতোমধ্যে পেছনে ফেলেছে, যা ম্যাচটিকে ২০২৬ সালের একক কোনো গ্যালারিতে সর্বাধিক দর্শক সংগৃহীত ক্রীড়া ইভেন্টের মর্যাদা এনে দিয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের সর্বকালের সেরা অধিনায়ককে ঘরের মাঠে রাজকীয় বিদায় জানাতে এই মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে। বিশেষ এই ম্যাচের জন্য আলবিসেলেস্তারা পরিধান করবে স্মারক জার্সি, যেখানে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার লম্বালম্বি স্ট্রাইপের সাথে যুক্ত করা হয়েছে প্রতীকী সান অব মে ও লরেল পাতা। তবে সমর্থকদের তীব্র আবেগের মাঝেও ফিফার কঠোর নিয়মকানুন বাধ্য করছে অন্য এক বাস্তবতায়-বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার মতো প্রধান টুর্নামেন্টে ১ থেকে ২৬ নম্বর জার্সির ধারাবাহিকতা বাধ্যতামূলক হওয়ায় মেসির ১০ নম্বর জার্সিটি চিরতরে তুলে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং বিশ্বজয়ী স্কোয়াডের সতীর্থরা এই মুহূর্তটিকে কেন্দ্র করে অত্যন্ত আবেগাপ্লুত। ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর ভাষায়, “বিশ্ব মেসিকে যতটা মিস করবে, দলের ভেতরের মানুষগুলো তার অভাব বোধ করবে তার চেয়ে বহু গুণ বেশি।” পুরো ফুটবল বিশ্বকে এই “লাস্ট ড্যান্স”-এ শরিক করতে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী পুরো দলকে বিশেষ অতিথি হিসেবে এই ঐতিহাসিক সান্ধ্যকালীন আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
শুধু মাঠের ভেতরেই নয়, মাঠের বাইরেও উন্মাদনা তুঙ্গে। বুয়েনস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে গ্রাসিয়াস, লিও ফ্যান ফেস্ট, যা দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত লাইভ স্ক্রিনিং, সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে পুরো শহরকে এক উৎসবের নগরীতে পরিণত করবে।
পূর্বকোণ/নুসরাত

















