সৌদি আরবের মক্কা নগরীর একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজে’ লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সিতি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি রায় কার্যকরের এই খবর প্রকাশিত হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, সাজার ধরন এবং প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষার সার্বিক বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।
সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মসজিদের নিয়ম ও পবিত্রতা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিশেষ আদালত আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে ‘তা’জির’ বা বিচারকের বিশেষ এখতিয়ারের আওতায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। উচ্চ আদালতের বহাল সিদ্ধান্ত ও রাজকীয় আদেশের মাধ্যমে মক্কা অঞ্চলে এই শাস্তি বাস্তবায়ন করা হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে তসলিমা নাসরিন বিচারপ্রক্রিয়ার অস্পষ্টতা নিয়ে তুলে ধরেছেন একাধিক প্রশ্ন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে ‘অনৈতিক কাজের’ সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা ছিল না। কোনো অস্পষ্ট অভিযোগ বা আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনযোগ্য শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। নির্দিষ্ট স্থানে আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো ঘটনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকতে পারে, কিন্তু তার পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় নিয়ে জীবনাবসান ঘটানো কতটা সঙ্গতিপূর্ণ, সেই বিষয়টি তিনি আলোকপাত করেন।
সার্বিকভাবে মৃত্যুদণ্ড প্রথার বিরোধিতা করে তসলিমা নাসরিন বলেন, আদালতের নির্দেশ কিংবা রাষ্ট্রীয় অনুমোদনের মধ্য দিয়ে শাস্তি কার্যকর করা হলেও তা চরম একটি পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও বিচারিক নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এমন কঠোর আইনি কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষায় কনস্যুলার সহায়তার বিষয়টিতেও জোর দেন এই লেখক। বিচারাধীন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট নাগরিকদ্বয় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং উপযুক্ত আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করেন তিনি।
সৌদি সরকার স্পষ্ট করেছে যে, দেশে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও আইনি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই শরিয়াহ আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠন ও সমাজ বিশ্লেষকরা আন্তর্জাতিক বিচার কাঠামোর আলোকে প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
পূর্বকোণ/রানা



















