সাম্প্রতিক টানা রেকর্ড বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক দ্রুত সংস্কার করে নাগরিক দুর্ভোগ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
রবিবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে বৃষ্টি-পরবর্তী সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা ও নগর উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় মেয়র প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানের কাছে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সর্বশেষ অবস্থা জানতে চান। এ সময় প্রধান প্রকৌশলী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ক্ষয়ক্ষতি এবং সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে সড়কে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার করে নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই সংস্কার কাজে বিলম্ব করা যাবে না।
তিনি বলেন, সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। নগরীকে আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করতে ১০ লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
এ সময় কর্মকর্তারা মেয়রকে জানান, নগরীর বিভিন্ন সড়কের মিডিয়ান ও আইল্যান্ডে লাগানো গাছের সুরক্ষার জন্য স্থাপিত রেলিং প্রায়ই চুরি হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পথচারীদের অসচেতন চলাচল এবং কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে অনেক গাছ নষ্ট হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, নগরীর সৌন্দর্য রক্ষায় যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো টেকসই করতে হবে। এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে মিডিয়ান আইল্যান্ডের রেলিং সহজে চুরি করা না যায় এবং লাগানো গাছগুলো নিরাপদ থাকে।
এ সময় প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা লোহার পরিবর্তে ফেরোসিমেন্ট অথবা ফাইবার দিয়ে মিডিয়ান আইল্যান্ডের সুরক্ষা কাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব দেন। মেয়র প্রধান প্রকৌশলীকে আগ্রাবাদ এলাকায় এক কিলোমিটারজুড়ে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করে ফেরোসিমেন্ট ও ফাইবার—কোনটি অধিক সাশ্রয়ী, টেকসই ও কার্যকর হবে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ দেন। সফল হলে পর্যায়ক্রমে বিমানবন্দর থেকে মোহরা পর্যন্ত মিডিয়ান আইল্যান্ডে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে র্যালিং নির্মানের নির্দেশনা দেন।
সভায় মেয়র বৃষ্টির কারণে ব্যাহত হওয়া পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বৃষ্টির পানির সঙ্গে পাহাড়ি মাটি, কাদা ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য নগরীর বিভিন্ন সড়কে জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। এগুলো দ্রুত অপসারণ করে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রকৌশলী এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।
পূর্বকোণ/রাজীব/পারভেজ
















