চট্টগ্রাম নগরীর জামালখানে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র আদনান ইসপার (১৫) হত্যাকাণ্ডের আট বছরে শেষ হয়নি বিচারিক কার্যক্রম। মামলাটি বর্তমানে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। আদনান হত্যাকাণ্ড ছিল চট্টগ্রাম মহানগরীর কিশোর গ্যাংয়ের প্রথম হত্যাকাণ্ড।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর আদনান ইসফার হত্যাকাণ্ডে বিগত আট বছরে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাত আসামির মধ্যে ঘটনার দায় স্বীকার করে চারজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে সব আসামি জামিনে রয়েছে।
জানতে চাইলে বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এইউএম নুরুল ইসলাম জানান, মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। যে কয়জন সাক্ষী দিয়েছে তা মামলার রায় দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত।
যেভাবে ঘটে খুনের ঘটনা: ফুটবল খেলার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র আদনান ইসপারকে হত্যা করা হয়েছিল ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি। হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃতরা। একমাত্র ছেলেকে কে বা কারা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে এমনটি জানিয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন প্রকৌশলী আকতারুল আজম। জামালখান প্রেস ক্লাবের পেছনে আম্বিয়া সেরিন নামে ভবনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকেন আকতারুল। ঘটনার এগারো মাসের মাথায় ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদনান হত্যায় জড়িত থাকার দায়ে গ্রেপ্তার মঈন খান বাবু, সাব্বির খান, আবদুল্লাহ আল সাঈদ, এখলাছ উদ্দিন, মুনতাছির মোস্তফা ও জিলহজ্ব উদ্দিন এনামের অনুসারী ছিলো। রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের মৃত ইস্কান্দর চৌধুরীর ছেলে এনাম হোসেন চৌধুরী জামালখান এলাকায় স্কুল ও কলেজে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী এসব ছাত্রদের হাতে প্রায় সময় অস্ত্র তুলে দিতো।
ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এনামের অনুসারীদের সঙ্গে নিহত আদনানের বন্ধুদের বাকবিতণ্ডা হয় ঘটনার কয়েকদিন আগে। ঘটনার দিনে দুপুরে (১৬ জানুয়ারি ২০১৮) জামালখান আইডিয়েল স্কুল এলাকায় আদনানের অবস্থানের বিষয় নিশ্চিত হবার পর গণি বেকারি এলাকায় এসে সাব্বিরের হাতে একটি পিস্তল তুলে দিয়ে প্রয়োজনে আদননানকে গুলি করতেও নির্দেশ দেয়। অস্ত্র হাতে পাবার পর পরই মঈন, সাব্বির, সাঈদ, এখলাছ, মুনতাছির গণি বেকারি এলাকায় মামুর দোকানে জড়ো হয়। পিস্তল ছাড়াও তারা ধারালো ছুরি সঙ্গে নেয়। বেলা আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে আইডিয়েল স্কুলের সামনে আদনানকে পাঁচজনে মিলে প্রথমে মারধর করে। এক পর্যায়ে মঈন খান আদনানকে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় সাব্বির পিস্তল বের করে গুলি করার ভয় দেখায়। ছুরিকাঘাতে আহত অবস্থায় বাঁচার জন্য বাসার দিকে দৌড় দিলে জামালখান ডা. খাস্তগীর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে ফুটপতে পড়ে যায়। পথচারীরা আহত আদনানকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আদনান হত্যার তদন্ত প্রতিবেদনে মঈন খান, সাব্বির খান, আবদুল্লাহ আল সাঈদ, এখলাছ উদ্দিন আরমান, মুনতাছির মোস্তফা, জিলহাজ উদ্দিন ও এনাম হোসেন চৌধুরীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে ঘটনার সময় ব্যবহৃত পিস্তল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
পূর্বকোণ/ইবনুর


















