গেট পাস ইস্যুকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও বন্দর নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনার জেরে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ছয় ঘণ্টা পণ্য পরিবহন বন্ধ ছিল। শ্রমিককে মারধরের অভিযোগে সোমবার বিকেল ৩টা থেকে ট্রেইলার, প্রাইম মুভার ও কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে বন্দর থেকে কন্টেইনার ডেলিভারি কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রাত ৯টার দিকে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল শুরু হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বন্দরের গেট দিয়ে প্রবেশের পাস ইস্যুকে কেন্দ্র করে ট্রেইলার শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মোকতার হোসেনের সঙ্গে গেটে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মীদের প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে গড়ায়। এক পর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।
প্রাইম মুভারস ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম খান বলেন, গেট পাসের নির্ধারিত ফি ৫৭ টাকা হলেও ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। সমিতির কোষাধ্যক্ষ মোকতার হোসেনের কাছ থেকেও বাড়তি টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করলে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তার বিরোধ হয়। পরে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সেলিম খান বলেন, বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা এসে মীমাংসার প্রস্তাব দেন। এরপর আমরা সবাই চার নম্বর গেটে গেলে সেখানে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে নিরাপত্তার কারণে আমরা পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দিই।
এদিকে এ ঘটনায় বন্দরের নিরাপত্তাকর্মী আশিকুর রহমানও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে বন্দরের বিভিন্ন গেটে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কন্টেইনারবাহী ট্রেইলারের পাশাপাশি প্রাইম মুভার ও কাভার্ডভ্যানও চলাচল বন্ধ রাখেন শ্রমিকরা। বিকেল থেকে শ্রমিকরা বন্দরের চার নম্বর গেটে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে রাত ৯টার দিকে বন্দরের গেট দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টার অচলাবস্থার অবসান ঘটে।
এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। জানার পর এ বিষয়ে কথা বলতে পারব।’
পূর্বকোণ/পারভেজ


















