সন্দ্বীপের রহমতপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ শাহাদাতের একমাত্র মেয়ে আনিশাকে (১৩) অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর কুমিল্লা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩জুলাই) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শিশুটি নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
পরিবার জানায়, আনিশা গ্রামের আনন্দ পাঠশালা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুল ছুটির পর তাদের পারিবারিকভাবে পরিচিত আরিফ নামে দিনাজপুরের এক ব্যাক্তি আনিশাকে জানায় তার মা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে গেছেন। তাই ওই ব্যক্তি আনিশাকে তার সঙ্গে যেতে বলে। পরিচিত হওয়ায় আনিশা তাতে বিশ্বাস করে তার সঙ্গে চলে যায়।
পরিবারের দাবি, কিছু দূর যাওয়ার পর আনিশা বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি জোরপূর্বক তাকে কুমিল্লার দিকে নিয়ে যায়।
এদিকে,তার পরিবার আনিশাকে না পেয়ে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বজনদের জানায়। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়।
উদ্ধারকালে থাকা নিকটাত্মীয় আমির হোসেন আজাদ জানান, “আনিশাকে কুমিল্লা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে আনিশার বাবা মোহাম্মদ শাহাদাতসহ আমরা সীতাকুণ্ডে অবস্থান করছি। সেখান থেকে তাকে নিয়ে সন্দ্বীপে ফিরছি।”
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার কাবিলা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর পর শিশুটির কান্নাকাটি ও আচরণে স্থানীয় মানুষের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধরা পড়ার আশঙ্কায় অভিযুক্ত ব্যক্তি আনিশাকে সেখানে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আনিশার কাছ থেকে পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
আনিশার বাবা মোহাম্মদ শাহাদাত বলেন, “আল্লাহর অশেষ রহমত, সবার সহযোগিতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় আমার মেয়েকে নিরাপদে ফিরে পেয়েছি। যারা উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন হালদার বলেন, অপহৃত শিশু আনিশা আমাদের হেফাজতে না আসা পর্যন্ত আমরা আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য দিতে চাচ্ছি না”
পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ















