আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি তেল কিনে দেশীয় বাজারে কম দামে বিক্রি করায় বিপুল পরিমাণ লোকসানের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। নিজেদের সঞ্চয় ভেঙেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না সংস্থাটি। এই অবস্থায় আগামী অক্টোবরে জ্বালানি তেল কিনতে জরুরি অর্থ সহায়তা চেয়ে সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তেল আমদানি ঠিক রাখতে ৪-৫ হাজার কোটি টাকা বিপিসিকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বিপিসির জ্বালানি আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। ফলে গত মার্চ থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে জ্বালানি তেল আমদানির এলসি নিষ্পত্তি করতে গিয়ে ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা লোকসানে পড়ে বিপিসি। রেকর্ড এই লোকসান সামাল দিতে নিজেদের সঞ্চয়ে হাত দেয় সংস্থাটি। ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত তহবিল থেকে ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়।
বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তত দুই মাসের জ্বালানি আমদানি খরচের সমপরিমাণ মূলধন থাকা প্রয়োজন। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী যা ১৫-২০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। তবে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ শেষে বিপিসির কাছে কার্যকরী মূলধন আছে ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। এই টাকা দিয়ে চলতি মাসে জ্বালানি তেল আমদানির এলসি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হলেও আগামী মাসে কঠিন হবে।
কারণ শুধু জ্বালানি তেল আমদানি নয়- এলপিজি ট্যাংক স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ বাবদ চলতি মাসে ৫২৪ কোটি টাকা এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের জন্য ডিসেম্বরের মধ্যে ৬৯০ কোটি টাকার প্রয়োজন। চলতি বছরেই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ মেটাতে আরও প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে বিপিসির। এই অবস্থায় গত ৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি দিয়ে বর্তমান আর্থিক চাপের কথা তুলে ধরে বিপিসি। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলামের দেওয়া ওই চিঠিতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। এর পাশাপাশি লোকসান হওয়া ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে সরকারের কাছে চাওয়া হয়।
এরই প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জ্বালানি তেল আমদানি ঠিক রাখতে বিপিসিকে ৪-৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আরও বিস্তারিত হিসাব দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে বিপিসি চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী মাসগুলোতে জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে নিতে বিপিসির অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন। আমরা আশা করছি সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। জ্বালানি আমদানিতে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।
পূর্বকোণ/নুসরাত
















