চট্টগ্রাম শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

ডেঙ্গুর মৌসুমে ডাব-মাল্টার দামে ‘জ্বর’

ডেঙ্গুর মৌসুমে ডাব-মাল্টার দামে ‘জ্বর’

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১২:২৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের সড়কের একটি ভাসমান দোকানে ডাব কিনতে এসেছিলেন সাহাব উদ্দিন। ডেঙ্গু আক্রান্ত এক স্বজনকে চিকিৎসকের পরামর্শে ডাবের পানি খাওয়াতে হবে। কিন্তু ডাবে হাত দিতেই যেন আকাশ থেকে পড়লেন এই যুবক। যে ডাব মাসখানেক আগেও ১২০-১৩০ টাকায় মিলেছে, সেটিই এখন বিক্রেতারা চাইছেন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। দুটি ডাব কেনার আগ্রহ থাকলেও শেষ পর্যন্ত একটি নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকেন তিনি।

 

শুধু সাহাব উদ্দিন নন, ডেঙ্গু ও মৌসুমি জ্বরে আক্রান্ত স্বজনদের জন্য ডাব কিনতে এসে এমন বাড়তি দামের মুখে পড়ছেন নগরীর হাসপাতালগুলোতে আসা রোগীর স্বজনেরা। ডাবের পাশাপাশি ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ মাল্টা ও কমলার দামও বেড়েছে। ফলে রোগীর পথ্য জোগাতেই বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। গতকাল শুক্রবার নগরের চমেক হাসপাতাল, আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

 

পাঁচলাইশ এলাকায় কথা হয় তাহমিনা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘একেবারে ছোট ডাবটি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। এর চেয়ে একটু বড় আকারের চাইলে বিক্রেতা দাম হাঁকছেন ২০০ টাকা। কোনো কিছুর চাহিদা বাড়লেই দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যে যেভাবে পারছে বাড়তি অর্থ আদায় করছে। এসব দেখারও কেউ নেই। তবে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, এখন তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, সেজন্য বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ এখন গরম ও ডেঙ্গুর কারণে চাহিদা বেশি, কিন্তু সে অনুযায়ী সরবরাহ কম। ডাবের সরবরাহ বাড়তে আরও প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। তখন দাম কমে যাবে।

 

ডাবের পাশাপাশি একই অজুহাতে মাল্টা ও কমলার দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মাসখানেক আগে প্রতি কেজি মাল্টা ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রেতারা চাইছেন ৪০০ টাকা। একই সময়ে ৩০০ টাকা কেজির কমলা এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ টাকায়। নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ এসব ফল কিনতেও ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। অনেকে দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন। দরদাম করেও খুব একটা সুবিধা হচ্ছে না।

 

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সুযোগ পেলেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া এদেশে রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এতে নিয়মিত সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। এই অরাজকতা বন্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। বাড়তি দামে ফল বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্যাহ।

পূর্বকোণ/নুসরাত

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট