চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

কাফকোর বর্জ্যমিশ্রিত বিষাক্ত পানিতে শেষ ৩৫ লাখ টাকার ঘেরের মাছ

কাফকোর বর্জ্যমিশ্রিত বিষাক্ত পানিতে শেষ ৩৫ লাখ টাকার ঘেরের মাছ

আনোয়ারা সংবাদদাতা

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৯:০৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) রাসায়নিকযুক্ত পানি মৎস্য ঘেরে প্রবেশ করে ব্যাপক মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় অন্তত ২০ মৎস্যচাষির প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের শাহাদাতনগর এলাকার কয়েকটি মৎস্য ঘেরে গিয়ে পানিতে বিপুল পরিমাণ মৃত মাছ ভেসে থাকতে দেখা যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের অভিযোগ, কাফকোর দিক থেকে আসা একটি ড্রেনের মাধ্যমে বর্জ্যমিশ্রিত পানি ঘেরগুলোতে প্রবেশ করে। এতে দ্রুত বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেনের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে এসব ঘেরে মাছ চাষ করে আসছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।

দীর্ঘদিনের এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি মো. ইসমাইল বলেন, এর আগেও কাফকোর বর্জ্যমিশ্রিত পানির কারণে আমাদের মাছ মারা গেছে। বিষয়টি কারখানা কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। এবারও আমাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হলো।”

ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য চাষিদের মধ্যে রয়েছেন মো. বাবুল হক খান, মো. খায়রুল বশর, মো. জসীম উদ্দীন, মো. সাবা, মো. আনোয়ার, এমদাদ হোসেন, মেহেদী হোসেন, মো. নেজাম উদ্দীন, মো. সাগর, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. ফারুক, আমিরুজ্জামান, মো. আবু কালাম, মোজাম্মেল, মো. মারুফ, মো. টিপু, মো. খায়রুন্নবী, মো. গিয়াস উদ্দিন ও মো. সেলিম খান।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বর্তমানে কারখানাটিতে সার উৎপাদন বন্ধ থাকলেও অভ্যন্তরীণ যন্ত্রপাতি মেরামত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ওভারহোলিংয়ের কাজ চলছে। রক্ষণাবেক্ষণের এই সময়ে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত পানি যথাযথভাবে শোধন না করেই নালার মাধ্যমে বাইরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ওই পানি খালের মাধ্যমে সংলগ্ন মৎস্য ঘেরগুলোতে মিশলে এই বিপর্যয় ঘটে।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হায়দার চৌধুরী বলেন, “এই ঘেরগুলোর ওপর ২০টি পরিবারের জীবিকা নির্ভরশীল। কাফকোর বিষাক্ত পানি ছেড়ে চাষিদের এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

বৈরাগ ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মামুন খান দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে কাফকোর জিএম (অ্যাডমিন) আলমগীর হোসেন বলেন, এটা কাফকোর বর্জ্য নয় তা নিশ্চিত। আমরা আগামীকাল মূল কারণ অনুসন্ধান করব।

আনোয়ারা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশিদুল হক বলেন, “এ বিষয়ে আমরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানির নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট