কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে প্রস্তুতকৃত ভুল গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে একটি চীনা জাহাজে উঠতে যাচ্ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির প্রতিবেদনে সিএনএন-এর বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়।
ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত চার অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে সিএনএন জানায়, জাহাজটি পারমাণবিক অস্ত্রের উপাদান বহন করছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন বাহিনী সেটি আটকে দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়।
বিশ্লেষকদের ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট জাহাজের মালামাল ভুলভাবে শনাক্ত করেছিল বলে জানার পর মার্কিন অভিযানটি বাতিল করা হয়। সিএনএন-এর উদ্ধৃত একটি সূত্র গোয়েন্দা প্রতিবেদনটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ উল্লেখ করে বলে, এটি ‘প্রায় একটি যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছিল’। তবে জাহাজটি প্রকৃতপক্ষে কী বহন করছিল বা কোথায় যাচ্ছিল তা প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর দায়িত্বে থাকা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে এই ঘটনার মন্তব্যের অনুরোধ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। চলতি মাসের শুরুতে এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের এক গবেষক প্রযুক্তি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় পদত্যাগ করার পর সিএনএন-এর এই খবরটি সামনে আসে।
অ্যানথ্রপিকের আরেক কর্মী জানান, আগামী এক দশকের মধ্যে এআই মানুষ ধ্বংস করতে পারে এবং এর সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি। তবে এসব সতর্কবার্তা সত্ত্বেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ব্যাপকভাবে সীমিত করার বিরোধিতা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার সহযোগীরা।
অন্যদিকে পলিটিকোর শুক্রবারের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অস্ট্রেলিয়া থেকে মেরামতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে এফ-থার্টিফাইভ যুদ্ধবিমানের সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ হংকংয়ে ডাইভার্ট হয়ে নিখোঁজ হয়েছে। এই ঘটনায় বেইজিং সংবেদনশীল মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি পেয়ে গেছে বলে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
এফ-থার্টিফাইভ সরবরাহ শৃঙ্খল পরিচালনাকারী লকহিড মার্টিনের মুখপাত্র নিরাপত্তার কারণে নির্দিষ্ট চালানের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করলেও জানান যে তারা ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার এবং ডিফেন্স লজিস্টিকস এজেন্সির সমস্ত নিয়মকানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করেন।
সূত্র: এনডিটিভি
পূর্বকোণ/এএইচ
















