চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

দুই ডোজেই উধাও ৩ বছরের শিশুর ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার

অনলাইন ডেস্ক

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২:৪৬ অপরাহ্ণ

ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইমিউনোথেরাপির একটি নতুন কৌশলে এক অসাধারণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। কাইমেরিক অ্যান্টিজেন রিসেপ্টর (সিএআর) টি সেল থেরাপির মাধ্যমে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মারাত্মক লিভার ক্যানসার পুরোপুরি নিরাময় হয়েছে। ‘দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে গবেষকরা ওই শিশুর হেপাটোব্লাস্টোমা (এক ধরণের ম্যালিগন্যান্ট লিভার ক্যানসার) সিএআর টি সেল চিকিৎসার পর পুরোপুরি ভালো হয়ে যাওয়ার নজির তুলে ধরেছেন।

টেক্সাসের হিউস্টনের বেলর কলেজ অফ মেডিসিনের পেডিয়াট্রিক অনকোলজিস্ট এবং প্রতিবেদনের প্রথম লেখক ডেভিড স্টেফিন বলেছেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, কেমোথেরাপিতে ভালো না হওয়া কঠিন টিউমারের ক্ষেত্রে কোনও ধরণের সিস্টেমিক বিষাক্ততা ছাড়াই পুরোপুরি বহির্বিভাগে এই স্থায়ী নিরাময় অর্জন করা সম্ভব।

শিশুটির ক্যানসার তার ফুসফুসে এবং হাড়ের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল। সে তিন দফা কেমোথেরাপি গ্রহণ করেছিল এবং তার মূল লিভার টিউমারসহ ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়া ক্যানসার অপসারণের জন্য দুটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এত কিছুর পরও ক্যানসার দ্রুত ফিরে আসে এবং ফুসফুসে নতুন টিউমার দেখা দেয়।

এই পুনরাবৃত্তির পর শিশুটিকে সিএআর টি সেল থেরাপির একটি পরীক্ষামূলক মানব ট্রায়াল সিএআরই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সে তার নিজের টি সেল থেকে তৈরি পরীক্ষামূলক জিপিসি৩-সিএআর চিকিৎসার দুটি ডোজ পায়। গবেষকরা লিভার ক্যানসারে বেশি থাকা গ্লাইপিকান-৩ প্রোটিন চেনার জন্য এই সেলগুলো প্রকৌশলী করেছিলেন।

চিকিৎসার প্রথম ডোজ পাওয়ার পর সিটি স্ক্যান এবং রক্তে আলফা-ফাটোপ্রোটিন প্রোটিনের মাত্রা কমে যাওয়ার মাধ্যমে শিশুটির আংশিক উন্নতি দেখা যায়। এর আট সপ্তাহ পর সে চিকিৎসার দ্বিতীয় ডোজ পায় এবং ফলোআপ স্ক্যানে দেখা যায় কিছু ক্ষতের দাগ ছাড়া রোগের আর কোনও লক্ষণ নেই। ১২ মাস পর শিশুটি সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত থাকে।

গবেষণার সহলেখক এবং সিয়াটল চিলড্রেনস হাসপাতাল ও ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের শিশু ক্যানসার বিশেষজ্ঞ আন্দ্রাস হেজি বলেন, এই গবেষণাটি প্রমাণ দেয় যে নতুন এই সিএআর টি সেল হেপাটোব্লাস্টোমার জন্য একটি নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে।

গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, বিশ্বজুড়ে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ হলো লিভার ক্যানসার। তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে এটি প্রারম্ভিক পর্যায়ের ট্রায়ালে একজন মাত্র রোগীর ক্ষেত্রে সফল হয়েছে, এবং এটি কতটা কার্যকর ও নিরাপদ তা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আরও রোগীর ওপর পরীক্ষা চালাতে হবে। বর্তমানে বেলর কলেজ অফ মেডিসিনে সিএআরই গবেষণা এবং সিয়াটল চিলড্রেনস হাসপাতালের মাধ্যমে ‘ইমপ্যাক্ট’ নামক আরেকটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: সায়েন্স এলার্ট

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট