বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কৃষিখাতে। রোপা আউশ, আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষেত-সবকিছুই তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় এক লাখ ২৬ হাজার ৫১১ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যার পানি নামার পর নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেছেন কৃষকেরা। কেউ বীজতলা তরি করছেন, কেউ জমি প্রস্তুত করছেন। এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার ৩০ হাজার ২২ হেক্টর জমিতে আউশ ধান রোপণ করা হয়েছিল। এরমধ্যে ১১ হাজার ৮৫৩ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ৯৬০ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। সবমিলে চট্টগ্রামে ১৬ হাজার ২৬ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. ওমর ফারুক পূর্বকোণকে বলেন, ‘প্রণোদনা হিসেবে ইতিমধ্যে ৬ টন বীজ বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের নিজউদ্যোগে বীজতলা তরি করা হচ্ছে। এছাড়া অনেক কৃষক ফেনী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছে।’ তিনি বলেন, বন্যার ক্ষতি পোষাতে সরকার প্রণোদনা হিসেবে নগদ অর্থ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। আশা করছি, দু-একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে সরকারি ঘোষণা আসতে পারে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য বলছে, এবারের বন্যায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মারা গেছে ১৬ জন| ১৫ হাজার ২২৮টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষির। বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও লোহাগাড়া উপজেলায়।
পটিয়া: প্রবল বৃষ্টি ও বন্যার কারণে কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর এবার ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেছেন কৃষকেরা। পানি নেমে যাওয়ার পর আউশ রোপণ ও আমনের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত।
হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। পটিয়া উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, বন্যায় প্রায় ১০০ হেক্টর আউশ ধান ও ৩২ হেক্টর আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। আমন মৌসুম শুরু হলেও চারা সংকটের কারণে চাষ শুরু করা যাচ্ছে না। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকদের বীজ ও সার প্রণোদনা দিচ্ছে কৃষি অধিদপ্তর। আমন চাষের জন্য নতুন করে বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পানি নেমে যাওয়ার পর জমির আগাছা পরিষ্কার, জমি প্রস্তুত ও নতুন করে আমনের বীজতলা তৈরির কাজ শুরু করেছে।
ধলঘাট ইউনিয়নের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যার পানিতে আউশ ধান ও আমনের বীজতলা পুরোটা তলিয়ে গেছে। বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এখন দ্রুত বীজ ও সার পেলে আমরা অন্তত ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাব। নতুন করে বীজতলা তৈরি করে পুনরায় চাষবাদ শুরু করতে পারবো।’
কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গুরুপদ দাশ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার পরই বীজ ও সার বিতরণ করা হবে।’
সাতকানিয়া: বন্যার ক্ষত এখনো শুকায়নি| জমিতে জমে রয়েছে কাদার স্তূপ। রোপা আউশ ও আমনের পচা বীজতলা। এখন পানি নেমে যাওয়ার পর শুরু হয়েছে কৃষকদের লড়াই। নতুন আশা নিয়ে মাঠে নেমেছেন তারা। কেউ নতুন করে বীজতলা তৈরি করছেন, কেউ আবার প্রতিবেশীর কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে আউশ ও আমন মৌসুমের ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলার চরতী, নলুয়া, ঢেমশা, কাঞ্চনা, খাগরিয়া, ছদাহা ও সোনাকানিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকেরা জমি থেকে কাদা ও আগাছা পরিষ্কার করছেন। অনেকেই ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করে পুনরায় রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ















