বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল পাঁচ জেলার ৪৫ উপজেলার ১৯১ ইউনিয়ন। এ সময় পাঁচ জেলায় মারা গেছে গরু ৭১, ছাগল ১৬৫, ভেড়া ৫০, মুরগি এক লাখ ৫৮ হাজার ৬০০ এবং হাঁস দুই হাজার পাঁচশো আটটি। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৭ কোটি ১৫ লাখ দুই হাজার ২৪০ টাকা। চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রামে জেলার ১৫টি উপজেলার ১০৮টি ইউনিয়নে প্রাণিসম্পদের আবাসস্থল প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে বন্যার পানিতে গরু মারা গেছে গরু ৩৯, ছাগল ৯৫, ভেড়া ৪২ হাঁস ১৩০০ ও মুরগি এক লাখ ৪২ হাজার ১৩৭টি। চারণভূমি প্লাবিত হয়েছে এক হাজার এক একর।
কক্সবাজার জেলায় আটটি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়নে প্রাণিসম্পদের আবাসস্থল প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৪টি গরু, ছাগল ৪৬, ভেড়া ৮, হাঁস ১২০৮ ও মুরগি ১২ হাজার ২৩৮টি। চারণভূমি প্লাবিত হয়েছে ৭৮৪০ একর।
পার্বত্য জেলা বান্দরবানে সাতটি উপজেলায় ২৪টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। চারণভূমি প্লাবিত হয়েছে ৫১০ একর। এরমধ্যে মারা গেছে চারটি গরু, ১০টি ছাগল ও ১১’শ ২৫টি মুরগি। রাঙামাটিতে ছয়টি উপজেলায় ১৫টি ইউনিয়নে ১১’শ ২৯ একর চারণভ‚মি প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে ১১ট গরু, ১১ ছাগল ও ২৪০০ মুরগি মারা গেছে। খাগড়াছড়িতে নয়টি উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। তবে কোনো চারণভূমি প্লাবিত হয়নি। বন্যার পানিতে মারা গেছে তিনটি গরু, তিনটি ছাগল ও ৭০০ মুরগি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে গবাদি পশুর খামার নষ্ট হয়েছে ৪২১৮টি ও হাঁস মুরগির খামার নষ্ট হয়েছে পাঁচ হাজার ৬৭৪টি। সবমিলিয়ে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬০ কোটি ৬৮ হাজার ১১’শ ৪০ টাকা। কক্সবাজারে গবাদি পশুর খামার নষ্ট হয়েছে ৩৪টি এবং হাঁসমুরগির খামার নষ্ট হয়েছে ৪০৩টি। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১৩ কোটি ৫৩ লাখ ৯১ হাজার ১০০ টাকা। বান্দরবানে হাঁস মুরগির খামার নষ্ট হয়েছে ১২টি। সবমিলিয়ে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।
রাঙামাটিতে গবাদি পশুর খামার নষ্ট হয়েছে ১৮৫টি। হাঁস মুরগির খামার নষ্ট হয়েছে ১৩৬টি। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দুই কোটি ৯৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা। খাগড়াছড়িতে পাঁচটি গবাদি পশুর খামার এবং ১০টি হাঁস মুরগির খামার বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ তিন কোটি ৭০ লাখ ১০০০ টাকা।
পূর্বকোণ/নুসরাত














