
বাংলার ইতিহাসে গৌরবগাথা কম নয়। কিন্তু প্রায় স্মৃতির অতলে চলে গেছে আমাদের জাতীয় জীবনের এক অমূল্য বীরত্বগাথা চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ। সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের সমস্ত অহংকার চূর্ণ করে দিয়েছিলেন মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন তরুণ যোদ্ধা। দোর্দণ্ডপ্রতাপের ব্রিটিশ শাসনের বিশাল ভারতবর্ষে চট্টগ্রামকে ৪ দিন স্বাধীন করে রেখেছিল কয়েকজন অকুতোভয় বিপ্লবী। এই বিপ্লবীরা টানা চারদিন ব্রিটিশদের কবল থেকে মুক্ত রেখেছিল চট্টগ্রামকে। সেই কালজয়ী তেজোদীপ্ত সময়কে ধারণ করে দিনটি স্মরণে বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রাম শনিবার (১৮ এপ্রিল) থিয়েটার ইনিস্টিটিউটে চতুর্থবারের মত আয়োজন করে ‘রাস্তা জুড়ে রোদ হোক’ শিরোনামে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ উৎসব-২০২৬।
সংগীত ভবনের দলীয় পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয় চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ উৎসব। এরপর কথামালা পর্বে অংশ নেন সংগীতজ্ঞ ও শিক্ষক শীলা মোমেন, কবি ও সাংবাদিক ওমর কায়সার, কবি ও সাহিত্যিক অভীক ওসমান, বোধন আবৃত্তি পরিষদের সহ-সভাপতি অধ্যাপিকা সুবর্ণা চৌধুরী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল সোহেল।
অনুষ্ঠানে ওমর কায়সার বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম যুব বিদ্রোহের ইতিহাস ভুলতে বসেছে। এই দোষ আমাদের। আমরা আমাদের ইতিহাসটা তাদের জানাতে পারেনি। পুঁজিবাদের পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য ভুলতে বসেছি। আমরা যদি প্রকৃত ইতিহাসের দিকে যেতে না পারি আমরাই আমাদের সর্বনাশ ডেকে আনবো।’
অভীক ওসমান বলেন, ‘স্বদেশী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের সকল আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস আগামী প্রজন্মকে জানাতে হবে, নাহলে দেশের উত্থান ও গৌরবের অর্জন টিকে থাকবেনা।’
শীলা মোমেন বলেন, ‘অতীতের ভুল থেকে মানুষ শিক্ষা নেয়। আর অতীতের গৌরব আর সাফল্য থেকে মানুষ গৌরবান্বিত বোধ করে মনে আত্মবিশ্বাস অর্জন করে। এগুলো যদি শিশুদের ছোটবেলা থেকে শেখানো না হয় তাহলে এ জাতি কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবেনা।’
কথামালা শেষে দলীয় সংগীতে অংশ নেন সুরপঞ্চম ও ধ্রুপদ। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যেশ্বর, নৃত্য নিকেতন, নৃত্যভূমি। ব্রতচারি নৃত্য পরিবেশন করেন ফুলকী। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন মিশফাক রাসেল, সেলিম রেজা সাগর, রুনা চৌধুরী, পার্থ প্রতীম মহাজন, রূপশ্রী, স্নিগ্ধ, জসীম উদ্দীন। বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে বোধন আবৃত্তি পরিষদের বড়দের ও ছোটদের বিভাগ। উপস্থাপনায় ছিলেন গৌতম চৌধুরী, পলি ঘোষ, পূর্ণা দাশ, হাসিবুল ইসলাম শাকিল, ঋত্বিকা নন্দী।
পূর্বকোণ/পিআর