চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

বিশ্বকাপে মেসিদের খেলা দেখতে সাইকেলে ১৭ হাজার কিমি পাড়ি দিচ্ছেন তিন বন্ধু

বিশ্বকাপে মেসিদের খেলা দেখতে সাইকেলে ১৭ হাজার কিমি পাড়ি দিচ্ছেন তিন বন্ধু

অনলাইন ডেস্ক

৪ জুন, ২০২৬ | ৯:৩৭ অপরাহ্ণ

২০২৬ বিশ্বকাপে প্রিয় দল ও লিওনেল মেসিকে সমর্থন জানাতে প্রায় ৩০০ দিনে ১৭ হাজার কিলোমিটার (১০ হাজার মাইল) সাইকেল চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে পৌঁছেছেন আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলপাগল ভক্ত। এই অবিশ্বাস্য যাত্রায় তারা ১৭টি দেশ পাড়ি দিয়েছেন।

আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে এই দুঃসাহসিক ভ্রমণে বের হন তিন বন্ধু—মিগুয়েল সিলিও (৫৬), ইয়ামান্দু মার্তিনেস (৪৯) এবং ভিসেন্তে কোনকুলিনি (২৯)।

২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট আর্জেন্টিনার এন্ত্রে রিওস প্রদেশের গুয়ালেগুয়াইচু শহর থেকে তাদের সাইকেলের প্যাডেল ঘোরানো শুরু হয়।ভ্রমণকৃত দেশ: দীর্ঘ এই পথচলায় তারা ব্রাজিল, পেরু, ইকুয়েডর, পানামা, কোস্টারিকা, হন্ডুরাস এবং গুয়াতেমালার মতো ১৭টি দেশ অতিক্রম করেন।গন্তব্য ও লক্ষ্য: প্রায় ১০ মাসের এই যাত্রা শেষে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে এসে পৌঁছান।

সেখানে পৌঁছে তারা আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।

সাক্ষাতের পর ক্লদিও তাপিয়া ইনস্টাগ্রামে সেই তিন সমর্থকদের সঙ্গে ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘আর্জেন্টাইন সমর্থকদের আবেগ ও ভালোবাসার কোনো সীমা নেই, আর এই তিন সাইকেল আরোহী তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।’

আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে গ্যালারিতে বসে প্রিয় তারকাদের সমর্থন জানানোই তাদের মূল লক্ষ্য।

হাড়কাঁপানো ঠান্ডা থেকে শুরু করে তীব্র গরম—সবকিছু মোকাবিলা করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও রসদ সাইকেলের পেছনে বেঁধে নিয়েছিলেন তারা। তাদের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলিভিয়া এবং পেরুর পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ৫ হাজার মিটার উচ্চতায় সাইকেল চালানো। দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিয়ে প্রিয় তারকাদের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারলেও তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে একটিবার দেখা করা এবং ছবি তোলার সুযোগ পাওয়া।

তবে এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। ইকুয়েডরের কারাগার দাঙ্গা ও সহিংসতার মধ্যে পড়েন। কলম্বিয়াতে একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সময় কাছাকাছি এলাকা অতিক্রম করতে হয় তাদের।

তবে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। সেটি হলো- বিশ্বকাপের টিকিট সংগ্রহ করা। ফিফার অফিসিয়াল সেলে পাঁচবার চেষ্টা করেও তারা টিকিট পাননি। তবুও তাদের আশা, যেকোনো উপায়ে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে পারবেন।

পূর্বকোণ/আদর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট