চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

দিল্লিতে শুভেন্দুর সেই বৈঠক কি? মমতার দলে ভাঙন ধরাল!

মমতার দলে ভাঙনের নেপথ্যে কি দিল্লিতে শুভেন্দুর সেই বৈঠক?

অনলাইন ডেস্ক

৪ জুন, ২০২৬ | ৫:৫৬ অপরাহ্ণ

দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গ ভবনে এক সংক্ষিপ্ত বৈঠককে ঘিরে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসে। গত ২২ মে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জীর মধ্যে হওয়া ওই সাক্ষাতের মাত্র ১৩ দিনের মাথায় তৃণমূলের ৬০ জন বিধায়ক বিদ্রোহ করে বিধানসভায় নতুন নেতৃত্ব দাবি করেছেন। এর ফলে গত ২৮ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ভাঙনের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে অস্বস্তির লক্ষণ দেখা যায়। দলের বিভিন্ন বৈঠকে কমে যায় নেতাদের উপস্থিতি। নেতৃত্ব, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিয়ে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে, দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য এবং মমতা ব্যানার্জীর ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জীর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকে।

ঘটনার মোড় ঘুরে যায় গত ২২ মে। সেদিন দিল্লির পশ্চিমবঙ্গ ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জীর দেখা হয়। ঋতব্রত ব্যানার্জীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাক্ষাৎটি ছিল কয়েক মিনিটের এবং সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তার খোঁজখবর নেন এবং সরকারি আবাসন সংক্রান্ত কিছু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে কথা হয়। পাশাপাশি বিরোধী দলের বিধায়কদের প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।প্রাথমিকভাবে উভয় পক্ষই একে একটি সাধারণ সাক্ষাৎ হিসেবে তুলে ধরলেও পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

দিল্লির ওই সাক্ষাতের কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। ঋতব্রত ব্যানার্জী তৃণমূলের ভেতরে একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মুখ হয়ে ওঠেন। পরে দলটির ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জন তার নেতৃত্বে অবস্থান নেন বলে দাবি করা হয়। বিদ্রোহী বিধায়কেরা বিধানসভার স্পিকারের কাছে স্বাক্ষর জমা দেন। এরপর স্পিকার তাদের স্বীকৃতি দেন এবং বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত আসন বরাদ্দ করেন।
পরবর্তী সময়ে ওই গোষ্ঠী ঋতব্রত ব্যানার্জীকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত করে। এর মধ্য দিয়ে তৃণমূলের বিদ্যমান আইনসভা নেতৃত্বের কাঠামো কার্যত বদলে যায়।

সংকট মোকাবিলায় বিধানসভায় এই পরিবর্তনের পরপরই জরুরি পদক্ষেপ নেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। পশ্চিমবঙ্গজুড়ে দলের সব সাংগঠনিক কমিটি ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ১৯৯৮ সালে মমতা ব্যানার্জী কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন। এরপর দীর্ঘ ২৮ বছরের ইতিহাসে দলটি নানা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করলেও আনুষ্ঠানিক বিভক্তির ঘটনা ঘটেনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বের বিস্তারিত অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সাম্প্রতিক এই ঘটনাপ্রবাহ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

পূর্বকোণ/আদর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট