চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবে

কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবে: জরিপ

অনলাইন ডেস্ক

৪ জুন, ২০২৬ | ৭:৩১ অপরাহ্ণ

দেশের কৃষিপণ্য সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্যের কারণে উৎপাদক ও ভোক্তা পর্যায়ের দামের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক জরিপে দেখা গেছে, খামার বা উৎপাদন পর্যায় থেকে খুচরা বাজারে আসতে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে এ বৃদ্ধি ৮৭ শতাংশ। এ ছাড়া ডালের দাম বেড়েছে ৭৮ শতাংশ এবং বেগুনের ৭২ শতাংশ।

 

 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেশের পণ্যবাজারের চিত্র তুলে ধরা হয়।

 

 

প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, দেশের পণ্যবাজার এখনো নগরকেন্দ্রিক পাইকার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এর ফলে সরবরাহব্যবস্থায় বাজারকেন্দ্রীকরণ বাড়ছে এবং প্রতিযোগিতা কমছে।

 

 

সিপিডির ২০২৫ সালের বাজার জরিপের ভিত্তিতে এই বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জরিপে প্রায় এক হাজার অংশগ্রহণকারীর তথ্য নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষক থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। জরিপে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আলু, কাঁচা মরিচ, বেগুন, ডিম, গরুর মাংস, মাছ ও ব্রয়লার মুরগিসহ ১০টি পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

 

 

জরিপে দেখা যায়, উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি কাঁচা মরিচে—১১৬ শতাংশ। এরপর পেঁয়াজে ৮৭ শতাংশ, ডালে ৭৮ শতাংশ এবং বেগুনে ৭২ শতাংশ। সিপিডির মতে, দীর্ঘ সরবরাহব্যবস্থা এবং উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যকার একাধিক মধ্যস্বত্বভোগীর উপস্থিতিই এ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

 

 

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা যত বেশি, ভোক্তাকে তত বেশি দাম দিতে হয়। বাজারের বর্তমান কাঠামোতে কিছু অংশীজন সংগ্রহ ও খুচরা মূল্য নির্ধারণে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছেন।’

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, পেঁয়াজ, আলু, শাকসবজি, ডিম ও মাছ বিপণনের ক্ষেত্রে শহরভিত্তিক আড়তদারেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। খুচরা বিক্রেতারা পণ্য সংগ্রহের জন্য তাঁদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে এবং আড়তদারদের প্রভাব বাড়ছে।

 

 

সিপিডির মতে, এই নির্ভরশীলতা বাজারে কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি করছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে। কয়েকজন মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে অতিরিক্ত বাজারক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় প্রতিযোগিতা কমছে এবং অপ্রতিযোগিতামূলক আচরণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে তাঁরা লাভের বড় অংশ নিজেদের কাছে রেখে দিচ্ছেন, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে।

 

অন্যদিকে ডিম, ব্রয়লার মুরগি, গরুর মাংস ও মাছের মতো যেসব পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত, সেসব ক্ষেত্রে উৎপাদক ও খুচরা পর্যায়ের দামের ব্যবধান তুলনামূলক কম দেখা গেছে।

 

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের ১৪ মে পর্যন্ত গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৯০ টাকায় পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালের পর সর্বোচ্চ। রুই মাছ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৩৬৫ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা।

 

 

এ সময়ের মধ্যে মসুর ডালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৯ সালে কেজিপ্রতি ৬৩ টাকা থাকা ডালের দাম ২০২৬ সালের মে মাসে বেড়ে ১১৮ টাকায় পৌঁছেছে। তবে চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। মাঝারি মানের পাইজাম চাল কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ডিম এখনো তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী আমিষের উৎস হিসেবে রয়েছে। চারটি ডিমের দাম ছিল ৩৭ টাকা।

 

 

বাজারের এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিপিডি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক তদারকি, অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বাজারনিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ রোধ, পণ্যবাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদক ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ জোরদারের সুপারিশ করেছে। সংস্থাটির মতে, অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো গেলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমবে, কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং সামগ্রিকভাবে বাজারের দক্ষতা বাড়বে।

 

 

পূর্বকোণ/রেহেনুমা নাসির

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট