বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, অর্থমন্ত্রী আইএমএফের সঙ্গে বৈঠক করার পর তারা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর শর্ত দিয়েছে। সেই শর্ত পূরণের কারণেই সরকার গতকাল অস্বাভাবিকভাবে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে। আমরা আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের দাস বা গোলাম নই যে তাদের কথা আমাদের মানতে হবে। তাদের পরামর্শে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে সরকার আবারও জনগণের দুঃখ-কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ, সিস্টেম লস, রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে। সেগুলো বন্ধ না করে আবারও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমরা জানি, রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের নামে অর্থ দলীয় লোকদের পকেটে যায়। এর মধ্যেই আবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে প্রান্তিক মানুষের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী ফেব্রুয়ারিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে আগামী দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না। কিন্তু তিন মাস না যেতেই গতকাল সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সরকার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে, যা জনগণকে বিস্মিত করেছে। এর আগেও গ্যাস ও তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে জনগণকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছে সরকার। নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ার কারণে মানুষের জীবনযাপনে আরও দুর্ভোগ নেমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে জনগণের রোষানলে পড়তে হবে। এখনও সময় আছে। স্বাভাবিকভাবে দেশ পরিচালনার চেষ্টা করলে বিরোধী দলের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। আমরা তা হতে দেব না। অবিলম্বে সরকারকে গণবিরোধী সব সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।
পূর্বকোণ/কায়ছার


















