মৃত ভেবে স্বামীর শেষকৃত্যও সেরে ফেলেছিলেন স্ত্রী। মাত্র একদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি শোকবার্তাও পোস্ট করেছিলেন ব্রিটিশ পর্বতারোহী ক্রিস থ্রল।
বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু পর্বতমালা মাউন্ট এভারেস্টে ৬ দিন ধরে নিখোঁজ নেপালি গাইড দাওয়া শেরপার বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন স্বজনসহ সবাই।
সর্বশেষ তাকে দেখা গিয়েছিল মাউন্ট এভারেস্টের ২৪ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায়, ক্যাম্প ৩-এর কাছে। এভারেস্ট জয় করে নিচে নামছিলেন তিনি। এত উচ্চতায় অক্সিজেনের স্বল্পতার পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে তার বেঁচে থাকার আশা ক্ষীণ ছিল।
বার্তাসংস্থা এএফপিকে তার স্ত্রী জানিয়েছিলেন, স্বামীর আত্মার শান্তির জন্য শেষকৃত্য প্রার্থনাও করে ফেলেছেন তিনি।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ভিডিও পোস্টে পর্বতারোহী ক্রিস থ্রল জানিয়েছেন, ক্যাম্প-৪ থেকে নামার সময় কিছুক্ষণ বিশ্রামের জন্য ব্যাকপ্যাক নিয়ে বসেছিলেন দাওয়া। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, হিলারি, তুমি ঠিক আছো তো? উত্তরে দাওয়া বলেছিলেন, হ্যাঁ, আমি ঠিক আছি ক্রিস।থ্রল আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি এতোটাই প্রতিকূল ছিল যে পাঁচ দিনের অভিযান শেষ হতে আমাদের ১১ দিন লেগেছিল।’ তিনি পরে এক পোলিশ পর্বতারোহীকে সঙ্গে নিয়ে নেমে আসেন।
কিন্তু দাওয়া আর তাদের সঙ্গে যোগ দেননি।তবে আজ বৃহস্পতিবার এভারেস্টের খুম্বু আইসফল এলাকায় বরফের মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে দাওয়া শেরপাকে নেমে আসতে দেখেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তার দুই হাতে বরফ জমে গিয়ে ছিল, যাকে ফ্রস্টবাইট বলে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে সুস্থ ছিলেন তিনি।
অবিশ্বাস্য এ ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।উদ্ধার অভিযান তদারকিকারী ‘৮কে এক্সপেডিশনসের’ নির্বাহী পরিচালক পেম্বা শেরপা বলেন, ‘আমার জানা মতে, এভারেস্টের এত উঁচুতে একা একা এতদিন বেঁচে থাকার নজির আর কারও নেই। ছয় দিন একা বেঁচে থাকা এবং নিরাপদে নেমে আসাটা সত্যিই এক অলৌকিক ঘটনা।’
তিনি আরও বলেন, সব প্রতিকূলতাকে জয় করে দাওয়া এতো দিন বেঁচে ছিলেন। এটি সত্যিকারের একটা আত্মরক্ষার গল্প।
পেম্বার ধারণা, নিজেকে বাঁচাতে দাওয়া হয়তো পথে থাকা কোনো তাঁবুর ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিলেন।বর্তমানে কাঠমান্ডুর হ্যামস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন দাওয়া শেরপা।
হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের চিকিৎসক নিশান্ত ঢাকাল জানান, দাওয়া শেরপা জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং কথা বলতে পারছেন।দাওয়ার মেয়ে মেন্দো লামো শেরপা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘বাবা আমাকে চিনতে পেরেছেন। তার অবস্থা ভালো এবং তিনি কথা বলছেন। তাকে ফিরে পেয়ে আমরা খুবই খুশি।’
৫২ বছর বয়সী নেপালি গাইড দাওয়া শেরপা ‘হিলারি দাওয়া শেরপা’ নামেই বেশি পরিচিত। কিংবদন্তি পর্বতারোহী স্যার এডমন্ড হিলারির নামানুসারে তার এই নাম রাখা হয়েছিল।
বার্তাসংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এভারেস্টে আরোহণের সময় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন নেপালি, যারা মূলত গাইড হিসেবে কাজ করতেন।
এ বছর এক হাজারের বেশি পর্বতারোহী এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছেন, যা ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যস্ত মৌসুম।
পূর্বকোণ/রেহেনুমা নাসির


















