কক্সবাজার শহরের প্রধান পর্যটন জোন সুগন্ধা পয়েন্টে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙিয়ে মধ্যরাতে দখল করা আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাসজমি উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন। দৈনিক পূর্বকোণে সংবাদ প্রকাশের পর রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৫টায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার ও পৌরসভার কর্মকর্তাদের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ একর জমি পুরোপুরি দখলমুক্ত করা হয়।
যৌথ অভিযান ও জমি উদ্ধার
বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে সুগন্ধা বিচের প্রবেশমুখের প্রায় ৩ একর সরকারি জমির অবৈধ টিন ও বাঁশের ঘেরাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানের নেতৃত্বে থাকা পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুর রহমান সায়েম জানান, সরকারি খাসজমি দখলের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত জমিতে জেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাঙচুর করা টিন ও বাঁশের মালামাল পৌরসভার দুটি ডাম্পার ট্রাকে করে জব্দ করে নিয়ে যাওয়া হয়। দখলদার চক্রের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে পুনর্দখলের অপচেষ্টা করা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক নামের অপব্যবহার ও হকারদের ক্ষোভ
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোররাতে ৩০-৪০ জন শ্রমিক নিয়ে তাড়াহুড়ো করে জমিটি ঘেরাও করা হয়। এ সময় একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সিকিউরিটি গার্ড ও অনুসারী পরিচয়ে এলাকাটি পাহারা দেয়। তারা সেখানে থাকা ভাসমান হকারদের তাড়িয়ে দেয় এবং এ বিষয়ে মুখ খুললে মারাত্মক পরিণতির হুমকি দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হকারেরা একজোট হয়ে ১০০ ফুটের মতো টিনের বেড়া ভাঙচুর করলে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
রবিবার দৈনিক পূর্বকোণে “সুগন্ধায় ৫০০ কোটি টাকার সরকারি জমি মধ্যরাতে দখল” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে সুধীসমাজ ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সংবাদের গুরুত্ব অনুধাবন করে জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিকেলে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয়দের দাবি, কোটি কোটি টাকার সরকারি খাসজমি বারবার দখল হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে স্থায়ী প্রশাসনিক নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পূর্বকোণ/রাজীব

















