চট্টগ্রাম শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

টেকনাফ-উখিয়ায় অপরাধ দমনে বিশেষ বাহিনী গঠনের দাবি

টেকনাফ-উখিয়ায় অপরাধ দমনে বিশেষ বাহিনী গঠনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ জুলাই, ২০২৬ | ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত এলাকায় চলমান অপহরণ, মানবপাচার এবং সশস্ত্র অপরাধ দমনের দাবিতে আজ বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে “নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন, টেকনাফ-উখিয়া”-এর ব্যানারে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 

মানববন্ধনে টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

 

বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দিন ধরে ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা বলেন, বর্তমান টাস্কফোর্স কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এখন স্থায়ী ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

 

মানববন্ধন থেকে সরকারের কাছে ছয়টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়-

বিশেষ বাহিনী গঠন: অপহরণ ও মানবপাচার দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পৃথক বাজেট ও নিজস্ব কমান্ড কাঠামোসহ একটি স্থায়ী “বিশেষ বাহিনী” গঠন করতে হবে।

 

সীমান্তে সেনাবাহিনীর টহল: নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম জোরদার এবং প্রয়োজনীয় স্থানে সেনা ক্যাম্প স্থাপন করতে হবে।

 

নাফ নদীর নিরাপত্তা: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জালিয়ার দ্বীপে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি স্থায়ী ঘাঁটি (Permanent Operational Base) অবিলম্বে স্থাপন করতে হবে।

 

নিরাপত্তা অবকাঠামো: বাহারছড়া পাহাড়, হোয়াইক্যং ঢালা ও হ্নীলার মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।

 

সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান: রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি করা হয়।

 

আন্দোলনের পক্ষ থেকে দাবিসমূহ পাঠ করেন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী রুবায়েত হোসাইন। এরপর আন্দোলনের পরবর্তী ৫ দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইসাল সাফি।

 

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, টেকনাফ-উখিয়ার এই সংকট কেবল স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে গণতান্ত্রিক ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি পালন করা হবে বলে আয়োজকরা জানান।

 

পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট