চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

নিঃস্ব ভিটায় আজ বাজবে মেয়ের বিয়ের সানাই

নিঃস্ব ভিটায় আজ বাজবে মেয়ের বিয়ের সানাই

বাঁশখালী সংবাদদাতা 

২৪ জুলাই, ২০২৬ | ৮:২৬ অপরাহ্ণ

বাঁশখালীর বাহারছড়ার পূর্ব চাপাছড়ি এলাকার কৃষক নুরুন্নবী। আজ শুক্রবার তার কলেজপড়ুয়া মেয়ের বিয়ে। কিছুটা ধুমধাম ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেয়ের বিয়ের কথা ছিল। খাবার-দাবারের জন্য কিছু ধান-চাল জমা রেখেছিলেন। কিন্তু সর্বনাশা বন্যায় কেড়ে নিয়েছে ঘরবাড়ি, বিয়ের জন্য রাখা ধান-চাল। ভেসে গেছে ঋণের ৫০ হাজার টাকাও। তারপরও সর্বস্ব হারানো নুরুন্নবীর মেয়ের বিয়ে আজ।

 

কৃষক নুরুন্নবী বলেন, বন্যার আগে মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ পাকা হয়। বরযাত্রীদের খাবারের জন্য কিছু ধান-চাল জমা রেখেছিলাম। কিন্তু বন্যার পানিতে ভিজে পচে সব নষ্ট হয়ে গেছে|

 

শুধু তাই নয়, থাকার ঘরও কাদাপানিতে ভরে রয়েছে। পেছনের দিকে ধসে গেছে। বসবাসের ঘরটি অনুপযোগী। তাই বাধ্য হয়ে পথিলিন টাঙিয়ে উঠানের এককোণে রাত কাটাচ্ছি। আর বড় ছেলে বউ নিয়ে গোয়ালঘরের একপাশে থাকছে। মেয়েরা এক আত্মীয়ের ঘরে থাকছে। কোনো আয়োজন ছাড়া বিয়ের জন্য রাজি হয়েছেন ছেলেপক্ষ।

 

কৃষক নুরুন্নবী স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে সংসার। আড়াই কানি জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেন। তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, ঢলের পানিতে মাটির ঘর ধসে পড়েছে। বিয়ের জন্য রাখা ধান-চাল, টাকা সব তলিয়ে গেছে। বিয়ের জন্য এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের ৫০ হাজার টাকাও পানিতে ভেসে গেছে।

 

গত সপ্তাহের বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে নিঃস্ব হয়ে যান একই এলাকার বাঁশখালা গ্রামের রেনু আক্তার। তিনি বলেন, স্বামী প্রতিবন্ধী। দুই কানি জমি ১০ হাজার টাকায় বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেছিলাম। ১১০ আড়ির মত ধান জমা ছিল। কিন্তু বন্যার পানিতে ৫০-৬০ বস্তা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। সরেজমিন বাঁশখালীর খানখানাবাদ, বাহারছড়া, ছনুয়া, কাথরিয়া, পুইছড়ি, সরল, বৈলছড়ী, কালীপুর, সাধনপুর, পুকুরিয়া, শেখেরখীল, চাম্বল, শীলকূপ, গন্ডামারা ও বাঁশখালী পৌরসভা সদর জলদী এলাকা ঘুরে দেখা হয়। দেখা যায়, প্রতি এলাকায় ধানি জমি, ঘরের ধান ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

 

বাহারছড়ার পূর্ব চাপাছড়ি গ্রামের মো. ইলিয়াছ ছয় সন্তান নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন বর্গা চাষ করে। তিনি বলেন, ১৩০ বস্তা ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। একাধিক বেসরকারি সংস্থা থেকে ৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে চাষ করেছি। এখন কিস্তির টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।

 

আবদুল কাদের বললেন, চারজনের ছোট সংসার। ৩০ আড়ি ধান ছিল| পানিতে ডুবে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বসত বাড়িও পানিতে ভেঙে গেছে। এখন একটি দোকান ঘরে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকছি।

 

কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে ২৬ হাজার ৮ শ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত। সাড়ে তিন হাজার হেক্টর কৃষি জমি, আউশ ধান, সবজি, আমন বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

 

বাঁশখালী কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, বাঁশখালীতে বন্যায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখানকার উৎপাদিত সবজি ও ধান নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় সরবরাহ করা হয়। কৃষকদের উৎপাদনমুখী করতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

 

পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট