চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জাহাজীকরণের রেকর্ড

চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জাহাজীকরণের রেকর্ড

ইমাম হোসাইন রাজু

১৩ আগস্ট, ২০২৬ | ১:২০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাভাবিক সময়ে যেখানে মায়ের্সক লাইনের একটি জাহাজে ৬০০ থেকে ৭০০টি পণ্যভর্তি কন্টেইনার জাহাজীকরণ করা হয়, সেখানে এবার এক জাহাজে তোলা হয়েছে ৯৩৩টি। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল তৈরি পোশাক খাতের পণ্য।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, একদিকে রপ্তানি পণ্যের চাপ, অন্যদিকে বন্দরের দ্রুত অপারেশন-এই দুইয়ের সমন্বয়েই মাত্র ৫৫ দিনের ব্যবধানে নতুন এই রেকর্ড তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাহাজে কন্টেইনার তোলা শেষ হওয়ায় জাহাজটিও সময়মতো বন্দর ছেড়ে গেছে।

 

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১২ আগস্ট) জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) ১১ নম্বর জেটিতে অবস্থান করা ‘মায়ের্সক লাইনের’ ‘এমভি মায়ের্সক বিনতুলু’ জাহাজে ৯৩৩টি পণ্যভর্তি রপ্তানি কন্টেইনার বা ১ হাজার ৭৮৪ টিইইউস জাহাজীকরণ করা হয়েছে। একই জাহাজে আরও ১৪৪টি খালি কন্টেইনার (১৪৭ টিইইউস) তোলা হয়। সব মিলিয়ে জাহাজটিতে মোট ১ হাজার ৭৭টি কন্টেইনার বা ১ হাজার ৯৩১ টিইইউস জাহাজীকরণ করা হয়েছে। গত ৯ আগস্ট সকাল ৯টা ৫ মিনিটে জাহাজটিতে কন্টেইনার বোঝাই শুরু হয়। টানা অপারেশন শেষে বুধবার সকাল ৭টায় কন্টেইনার বোঝাই শেষ হয়। তিন শিফটে তিনটি করে গ্যাং এবং দিন ও রাতে ১৪টি করে ট্রেইলার ব্যবহার করে অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।

 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বুধবার জিসিবির ১১ নম্বর জেটি থেকে মায়ের্সক লাইনের এমভি মায়ের্সক বিনতুলু জাহাজে ৯৩৩টি রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার (১ হাজার ৭৮৪ টিইইউস) জাহাজীকরণ করা হয়েছে, যা এক জাহাজে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এর আগে গত ১৮ জুন এক জাহাজে রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার জাহাজীকরণের রেকর্ড ছিল ৭৪২টি কন্টেইনার বা ১ হাজার ৪৩৯ টিইইউস।

 

তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ১৪৪ মিলিয়ন টিইইউসে পৌঁছেছে। এর ফলে বৈদেশিক বাণিজ্য স¤প্রসারণ, সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

এদিকে, মায়ের্সক লাইনের স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, সাধারণ সময়ে তাদের একটি জাহাজে জিসিবি থেকে ৬০০ থেকে ৭০০টি পণ্যভর্তি রপ্তানি কন্টেইনার জাহাজীকরণ করা হয়। এবার ৯৩৩টি কন্টেইনার জাহাজীকরণ হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল তৈরি পোশাক শিল্পের পণ্য। সময়মতো অপারেশন শেষ হওয়ায় জাহাজটি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বন্দর ছেড়ে যেতে পেরেছে।

 

বাংলাদেশ বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী বলেন, এক জাহাজে এত বিপুলসংখ্যক রপ্তানি কন্টেইনার জাহাজীকরণ বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতার একটি বড় উদাহরণ। বন্দর কর্তৃপক্ষ, বার্থ অপারেটর, শিপিং লাইন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অপারেশন শেষ করা সম্ভব হয়েছে।

 

বন্দর-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাত্র ৫৫ দিনের ব্যবধানে আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়া এবং একই সঙ্গে স্বাভাবিকের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেকেরও বেশি কন্টেইনার জাহাজীকরণ হওয়া দেশের রপ্তানি কার্যক্রমে ইতিবাচক। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের বড় চালান সময়মতো জাহাজে তোলা সম্ভব হওয়ায় আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট