চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

আমতল সিডিএ মার্কেট : পার্কিংয়ে ১৬০ দোকান

আমতল সিডিএ মার্কেট: পার্কিংয়ে ১৬০ দোকান

নাজিম মুহাম্মদ

১৩ আগস্ট, ২০২৬ | ১:১৪ অপরাহ্ণ

নকশাবহির্ভূত নির্মাণ কাজ করার কারণে নগরের বেশ কিছু ভবনের বর্ধিত অংশ ভেঙে দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। বিভিন্ন স্কুল ও প্রাইভেট হাসপাতালে পরিদর্শন করে পার্কিংয়ের স্থান পর্যাপ্ত রাখার তাগিদ দিয়েছেন সিডিএ চেয়ারম্যান। অথচ সিডিএর বরাদ্দকৃত বাণিজ্যিক ভবনের পার্কিংয়ের জায়গায় তৈরি করা হয়েছে দোকান। করা হয়েছে নকশাবহির্ভূত কাজ। ভবনটিতে প্রবেশ করলে নিশ্বাস নেওয়া দায়। আটতলা বাণিজ্যিক ভবনটির অবস্থান নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার আমতল এলাকায়।

 

জানতে চাইলে সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, আপনারা জানেন আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে। আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল সবগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। আমরা দ্রæত সময়ের মধ্যে আমতল সিডিএ মার্কেটের অনিয়ম খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেবো।

 

আমতল থেকে নিউ মার্কেট হয়ে পুরাতন রেলস্টেশন পর্যন্ত সড়কের দুই পাশ দখল করে আছে কয়েক’শ হকার। এতে ওই এলাকায় দিন রাত যানজট লেগেই থাকে। হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ২০০১ সালে আমতল এলাকায় নির্মাণ করা হয় সিডিএ হকার্স মার্কেট। নাম দেওয়া হয় সিডিএ নিউ হকার্স মার্কেট ক্ষুদ্র দোকানদার সমবায় সমিতি লি.। ২০৪ জন হকারের নামে মার্কেটের জমিটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ সেখানে পুনর্বাসন হয়নি কোনো হকারের। সড়ক দখল করে রেখেছে তিন সারি হকার। সিডিএর এ মার্কেটে মানা হয়নি কোনো নিয়ম। ২০০১ সালের ২২ নভেম্বর ভবনটি নির্মাণের অনুমতিপত্রে ১৫টি শর্তের কথা লেখা রয়েছে।

 

১০ নম্বর শর্তে বলা হয়েছে, নকশায় দেখানে জায়গা ব্যতীত অন্য কোথাও গাড়ি রাখা যাবে না। পার্কিংয়ের খালি জায়গায় কোনো প্রকার দোকান বা ইমারত নির্মাণ করা যাবে না। ১৩ নম্বর শর্তে বলা হয়েছে, ভবনের প্রতিতলায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি প্রকাশ্যে স্থানে ব্যবহার বিধি লিপিবদ্ধপূর্বক স্থাপন করতে হবে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, আমতল সিডিএ মার্কেটে পার্কিংয়ের কোনো স্থান নেই। পার্কিংয়ের স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে ১৬০টি দোকান। প্রতিটি দোকান বিক্রি করা হয়েছে কোটি টাকায়। প্রথম তলায় তৈরি করা হয়েছে ২০৪, দ্বিতীয় তলায় ২০৪টি। চতুর্থতলা থেকে প্রতি ফ্লোরে ৫২টি করে দোকান তৈরি করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দোকানদার জানান, পার্কিয়ের স্থানে দোকান বিক্রি করে শত কোটি টাকা আয় করেছে নির্মাণকারীরা। আটতলা ভবনটির প্রতি তলায় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, লিফটের স্থান, স্কেলেটর সিঁড়ি রাখার কথা থাকলেও কোন কিছুই রাখা হয়নি। নকশার কোনো নিয়ম মানা হয়নি। সিঁড়িগুলো খুবই সরু।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিডিএ’র একাধিক কর্মকর্তারা জানান, মার্কেটটির নকশা সিডিএর অথরাইজড বিভাগের কোথাও নেই। অনেক আগেই নকশাটি গায়েব করা হয়েছে। ওই মার্কেটের নতুন কমিটি এলে তারা একতলা করে নির্মাণ করে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলছে। সিডিএ’র কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এ কাজে জড়িত। তারা ভবনটির নকশাও ‘গায়েব’ করে ফেলেছে।

 

জানা যায়, মার্কেটটি পার্কিং থেকে দ্বিতীয়তলা পর্যন্ত নির্মাণ করেছিল মোহাম্মদ মোতালেব চৌধুরী। জানতে চাইলে তিনি জানান, মার্কেটের জায়গাটি ২০৪ জনের নামে সিডিএ থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পার্কিং আর দ্বিতীয়তলা পর্যন্ত আমি নির্মাণ করেছি। ২০১৬ সালে দ্বিতীয়তলা থেকে আটতলা পর্যন্ত নির্মাণ করেছে সেলিম উল্লাহ। পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান নির্মাণ করা হয়েছে এটা সত্যি। অন্যান্য তলায় নকশাবহির্ভূত কাজ সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। এসব বিষয়ে জানতে সেলিম উল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

 

সিডিএ’র অথরাইজড অফিসার তানজীব হোসেন বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি এ মার্কেট নিয়ে একটি মামলা চলমান রয়েছে। মামলা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আমাদের আইন শাখা দেখেন। তাই এ বিষয়ে ওনারা ভালো জানবেন।’

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট