চট্টগ্রাম বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

সর্বশেষ:

‘বিপ্লব উদ্যানে’ ১০ মাসেও নেই কাজের অগ্রগতি

ইমরান বিন ছবুর

২২ এপ্রিল, ২০২৬ | ৩:৫০ অপরাহ্ণ

এক সময় বিপ্লব উদ্যান বললেই সবার চোখে ভেসে উঠতো গাছগাছালি ভরা একটি পার্ক। নগরীর দুই নম্বর গেটের সেই সবুজ প্রকৃতি সাফ করে শুরু হয় একের পর এক কর্মযজ্ঞ। এক সময়ে এসে এই উন্মুক্ত স্থানটির বড় অংশ রূপ নেয় বাণিজ্যিক স্থাপনায়। বাকি অংশটুকুতে বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হলেও এক পর্যায়ে উন্নয়নের নামে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়।

তবে মেয়র হিসেবে ডা. শাহাদাত হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত পার্কটিকে আবারও সবুজে ভরে তুলতে উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এজন্য গত বছরের ৪ জুন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নুর হাফিজ প্রপার্টিজের সঙ্গে ২৫ বছরের চুক্তি করে সংস্থাটি।

কথা ছিল এক বছরের মধ্যে তারা পার্কটির সবুজায়নের কাজ শেষ করবে। কিন্তু চুক্তির ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজের অগ্রগতি নেই বললেই চলে। যদিও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নুর হাফিজ প্রপার্টিজের দাবি বর্তমান দোকানদারদের বারবার বাধার কারণে কাজের অগ্রগতি হয়নি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে দোকান মালিক সমিতি।

গতকাল সোমবার বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, বিপ্লব উদ্যানের উন্মুক্ত স্থানটির চারপাশে টিন দিয়ে ঘেরাও দেয়া হয়েছে। ভেতরে কয়েকজন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। কিছু কিছু জায়গায় ঘাস লাগানো হয়েছে। পূর্বপাশে মাটি সমানের কাজ চলছে। এর বাইরে আর কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে নুর হাফিজ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী আজম বলেন, এই প্রকল্প গ্রহণের পর থেকে একের পর পর বাধার সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। বিশেষ করে বিপ্লব উদ্যানের দোকান মালিক সমিতি শুরু থেকে বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।

এসব বিষয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে আলী আজম আরো বলেন, বাধাগ্রস্ত হওয়ার এক পর্যায়ে ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট মেয়র মহোদয়কে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এরপরও একাধিকবার মৌখিকভাবেও বলেছি। একবার মেয়র মহোদয় নিজে উপস্থিত থেকে দোকান মালিক সমিতিকে আমাদের কাজে বাধা না দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে তাদের বাধার কারণে আমরা এখনো কাজ শেষ করতে পারিনি।

চসিকের সাথে নুর হাফিজ প্রপার্টিজ লিমিটেডের চুক্তি হলেও কাজটি বাস্তবায়ন করছে প্ল্যান-বি নামের একটি কনসালটেন্ট ফার্ম। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্থপতি মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিপ্লব উদ্যানকে সবুজায়ন করার জন্য আমরা কাজ করছি। উদ্যানে প্রায় ৪০ হাজার গাছ দিয়ে জাতীয় পতাকা বানানো হবে। এছাড়াও বর্তমান স্থাপনার উপরে আর্ট গ্যালারি, কিডস জোন থাকবে।   

নির্মাণ কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিপ্লব উদ্যান দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফ হোসেন বলেন, বর্তমানে যারা কাজ পেয়েছে তাদের বিভিন্ন সময়ে আমরা সহযোগিতা করেছি। নুর হাফিজ প্রপার্টিজ যখন কাজ শুরু করে তখন পানি সরবরাহ ছিল না, আমরা তাদের পানি দিয়ে কাজে সহযোগিতা করেছি। বাধা দেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।   

চসিক সূত্রে জানা যায়, ডা. শাহাদাত হোসেন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর তিনি বিপ্লব উদ্যান এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘোষণা দেন। ওই বছরের ১১ নভেম্বর চসিকের সাধারণ সভায় আগের মেয়রের সময় করা চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চুক্তি বাতিল করা হয়। 

জানতে চাইলে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্তমান দোকান মালিকরা বিভিন্নভাবে কাজে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে বিষয়টি আমিও শুনেছি। এছাড়াও দোকান মালিকরা একটি রিটও করেছি বলে শুনেছি। বিষয়টি সমাধান করে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

চসিক জানায়, প্রায় ৪৮ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে থাকা বিপ্লব উদ্যানকে নতুনভাবে সাজানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী চারপাশে উন্মুক্ত ফুটপাত ও ওয়াকওয়ে, মাঝখানে সবুজ মাঠ ও জলাধার, ব্যায়ামের জন্য বিভিন্ন কাঠামো, বসার বেঞ্চ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য অস্থায়ী উন্মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ওয়াকওয়ে ও ফুটপাতের মাঝখানে গাছ লাগিয়ে সবুজায়ন বাড়ানো হবে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট