চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বাড়ি থেকে মো. নাঈম (৩০) নামক এক যুবকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় চমেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার শনিবার সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। নিহত নাঈম সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখীল গ্রামের মো. খোকনের পুত্র।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভাটেরখীল এলাকার চিহ্নিত এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর কিছু ইয়াবা তার এক ব্যবসায়িক পার্টনার হারিয়ে ফেলে। এগুলো খোঁজাখুঁজি শুরু করলে পার্টনার জানায় ইয়াবাগুলো নাঈম আত্নসাত করেছে। এই কথা শুনে ইয়াবা ব্যবসায়ী ইরান তার দলবল নিয়ে গত ২০ জুলাই রাতে নাঈমকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে গ্রামের রাস্তার পাশে এক জায়গায় দলবল নিয়ে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে।
এক পর্যায়ে তার নক, চামড়া তুলে নেয়া হয়। এতে গুরুতর আহত হলে নাঈমকে আবার বাড়ির সামনে ফেলে রেখে চলে যায় দুস্কৃতিকারীরা।
এদিকে গভীর রাতে তার গোঙ্গানির শব্দ শুনে এক চাচাসহ কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থা আশংকাজনক দেখে তাকে চমেকে স্থানান্তর করেন চিকিৎসকরা। সেই থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যায় নাঈম মারা গেলে গ্রামে উত্তেজনা দেখা দেয়।
নাঈমের বৃদ্ধ বাবা মো. খোকন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী ইরানের কিছু ইয়াবা হারিয়ে গেলে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হয়। কিন্তু সেই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সে আমরা বাড়িতে না থাকা অবস্থায় ঘরে এসে আমার ছেলে নাঈমকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তাদের আঘাতের পর ৫ দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে সে মারা গেছে। এ ঘটনায় শনিবার আমরা থানায় মামলা করেছি। তিনি আরো বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আগেও হত্যা মামলা আছে। কোন শাস্তি না হওয়ায় সে বারবার খুন করছে। আমি ছেলে হত্যার কঠোর শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, এ হত্যার ঘটনায় শনিবার থানায় একটি মামলা হয়েছে। আমরা আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছি।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ















