চট্টগ্রাম শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

বাঁশখালীতে বন্যার্তদের জন্য ‘মানবতার ট্রাস্ট’র ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম

বাঁশখালীতে বন্যার্তদের জন্য ‘মানবতার ট্রাস্ট’র ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম

বাঁশখালী সংবাদদাতা

২৫ জুলাই, ২০২৬ | ১০:০৮ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী-সাতকানিয়ায় বন্যা এবং পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক ও সামাজিক সংগঠন ‘মানবতার ট্রাস্ট’। বন্যায় ঘরবাড়ি, আবাদি ফসল ও গবাদিপশু হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা পরিবারগুলোর মাঝে সংগঠনটি নিরলসভাবে ত্রাণ সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

 

শনিবার (২৫ জুলাই) উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদম রসুল গ্রামে বন্যা কবলিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ২৪০ প্যাকেট ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

 

সংগঠনের সদস্যরা জানান, ট্রাস্টের উদ্যোগে প্রতিদিন প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ মানুষের জন্য রান্না করা খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে প্রায় ৪০ টন নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

 

মানবতার ট্রাস্টের স্বেচ্ছাসেবীরা বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা, সাধনপুর, শীলকূপ, মনকিরচর, সরল রায়ছড়া, কোকদণ্ডী, পশ্চিম চেচুরিয়া ঘোনাপাড়া, লস্করপাড়া, মঙ্গলো বাড়ী, কাথারিয়া, মানিকপাঠান, কোটপাড়া, বাগমারা, বরইতলী, কাহারঘোনা, ছনুয়া, শেখেরখীল, বাহারছড়া এবং খানখানাবাদ ডোংরাসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রীসহ মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

 

আমেরিকা প্রবাসী সমাজসেবক খান বাহাদুর পরিবারের সদস্য মো. রায়হানুল ইসলাম চৌধুরীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর তত্ত্বাবধানে গঠিত প্রায় ৪০ সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী দল বন্যার শুরু থেকেই উদ্ধার ও ত্রাণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের সদস্য রেজাউল করিম, রাশেদ হোসাইন আনাস, মেহেদী হাসান, জামশেদুল ইসলাম, তৌহিদ রাকিবসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

মানবতার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বন্যা-পরবর্তী সংকট মোকাবিলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমাদের মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে-ইনশা আল্লাহ। তিনি আরও যোগ করেন, মানবতার কোনো ধর্ম বা বর্ণ নেই। একজন ক্ষুধার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতা। আমরা চাই সমাজের বিত্তবানরাও এই দুঃসময়ে এগিয়ে আসুক।

 

সংগঠনটি ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিস্টানসহ সকল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে আর্তমানবতার সেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

 

পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট