ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত স্কোরলাইন ছিল ২-০। মিশরের উচ্ছ্বাস তখন কোয়ার্টার-ফাইনালের স্বপ্ন ছুঁয়ে ফেলেছে। অন্যদিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বিদায়ের শঙ্কায়। কিন্তু এরপরই যেন বদলে যায় সবকিছু। মাত্র ১৩ মিনিটে তিন গোল করে বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লিওনেল মেসির দল।
শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনার। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় উল্টো পিছিয়ে পড়ে তারা। ম্যাচের ১৫ মিনিটে প্রথম কর্নার থেকেই গোল পায় মিশর। মারওয়ান আত্তিয়ার ক্রসে দুর্দান্ত হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইয়াসের ইব্রাহিম।
চার মিনিট পরই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে। নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু স্পট-কিক থেকে গোল করতে পারেননি লিওনেল মেসি। তার নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেয়র।
এরপরও একের পর এক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। মেসির ফ্রি-কিক ক্রসবারে লাগে, ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড, হুলিয়ান আলভারেজের শট এবং আরও কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ রুখে দেন শোবেয়র। প্রথমার্ধে ৫৯ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণে রেখে সাতটি শট নিলেও গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে মাত্র দুটি শটের একটিতে গোল করে ১-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় মিশর।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে আর্জেন্টিনা। ৫৮ মিনিটে মিশর দ্বিতীয়বার বল জালে পাঠালেও ভিএআরের সাহায্যে সেটি বাতিল হয়। গোলের আগে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করার প্রমাণ মেলে ভিডিও রিপ্লেতে।
তবে ৬৭ মিনিটে আর ভুল করেনি মিশর। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে হাইসেম হাসানের ক্রস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে মোস্তফা জিকো গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে তখন আর্জেন্টিনা।
ম্যাচে ফেরার লক্ষ্যে ৬৬ মিনিটেই আক্রমণভাগে পরিবর্তন আনেন আর্জেন্টিনার কোচ। মাঠে নামানো হয় নিকো গনজালেস ও লাউতারো মার্তিনেজকে। শেষ পর্যন্ত এই পরিবর্তনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
৭৯ মিনিটে লিওনেল মেসির দারুণ ক্রস থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো হেডে ব্যবধান কমান। এরপর ৮৩ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় গনজালো মন্টিয়েলের পাস থেকে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করে সমতা ফেরান মেসি। মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচে অবিশ্বাস্যভাবে ফিরে আসে আর্জেন্টিনা।
সমতায় ফেরার পরও আক্রমণ থামায়নি বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৮৯ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক থেকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট আবারও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন শোবেয়র। তবে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আর রক্ষা হয়নি মিশরের।
দ্রুত পাল্টা আক্রমণে লাউতারো মার্তিনেজের নিখুঁত ক্রস থেকে এনজো ফার্নান্দেজ হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন। তাতেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশি বাজার পর সেই ব্যবধানই ধরে রেখে কোয়ার্টার-ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল—বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো আরেকটি নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হয়ে থাকল আর্জেন্টিনা।














