জীবিকার প্রয়োজনে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন নাজমুস সাকিব। কিন্তু ব্যাট-বলের সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। দিনের পর দিন কাজের ফাঁকে অনুশীলন, অদম্য পরিশ্রম আর অটুট ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে একসময় তিনি জায়গা করে নিয়েছেন মালয়েশিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলে। ভাগ্যের কী নির্মম অথচ রোমাঞ্চকর পরিহাস, এবার সেই নাজমুস সাকিবই অপেক্ষায়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার।
মালয়েশিয়া জাতীয় দল তিন ওয়ানডে ও দুই টি-টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশে আসছে আজ। সেই দলের সঙ্গে আসছেন নাজমুস সাকিব। মিরপুর দুই টি-টোয়েন্টি হবে ৮ ও ১০ আগস্ট। বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে তিন ওয়ানডে হবে ১২, ১৪ ও ১৬ আগস্ট।
পিতৃহীন খুলনা রূপসার ২৬ বছর বয়সী নাজমুস সাকিব নেগেরি সিমবিলানের ‘সিলিফোকাস এসডিএন’ প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পাশাপাশি টেপ টেনিস ক্রিকেট খেলতেন। সেখান থেকেই পরিচয় হয় মালয়েশিয়া জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে, যা বদলে দেয় তার ক্রিকেট-জীবনের পথ।
প্রবাসে থাকা দুই শুভাকাঙ্ক্ষীর সহায়তায় ‘এসএসএফ প্যান্থারস’ ক্লাবে যোগ দিয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নজর কাড়েন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিন বছরের সাফল্যের পর মালয়েশিয়া ‘এ’ দলে সুযোগ পান।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ৫০ বলে ১২২ রানের ঝড়ো ইনিংস তাকে পৌঁছে দেয় জাতীয় দলে। এরপর ‘এসিসি মেনস চ্যালেঞ্জ কাপ’-এ মালয়েশিয়ার হয়ে অভিষেকেই থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে ফাইনালে তোলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে শিরোপাও জেতে মালয়েশিয়া।
এবার সেই দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে বাংলাদেশের দল বিসিবি হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের বিপক্ষে খেলবেন। যেই দলে আছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী, সাব্বির রহমান, আবু হায়দার রনির মতো খেলোয়াড়।
বাংলাদেশে নিয়মিত যাতায়াত এবং একাধিক ক্রিকেটারের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে নাজমুস সাকিবের। এবার তাদের বিপক্ষেই ব্যাট হাতে ঝড় তোলার অপেক্ষায় এই ক্রিকেটার।
পূর্বকোণ/আদর /পারভেজ















