চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৭ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

সক্ষমতা পরীক্ষা করতে ন্যাটোভুক্ত দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া

৭ আগস্ট, ২০২৬ | ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

ন্যাটোর প্রতিরোধ সক্ষমতা পরীক্ষা করতে রাশিয়া কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জোটটির কোনো একটি সদস্য দেশে হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

 

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চলতি শরৎকাল থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে যে কোনো সময় পূর্ব ইউরোপে সীমিত স্থল অনুপ্রবেশ কিংবা সাইবার হামলার মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে মস্কো।

 

এর আগে মার্কিন গোয়েন্দাদের মূল্যায়ন ছিল, ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশে সরাসরি হামলা চালাবেন না। নতুন মূল্যায়ন সেই অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

গত মাসে দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছিল, ইউরোপীয় ও মার্কিন গোয়েন্দারা পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে সশস্ত্র উসকানি, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা কিংবা ইউক্রেনের ওপর দায় চাপানোর উদ্দেশ্যে ফলস ফ্ল্যাগ হামলার সম্ভাবনা নিয়ে রাশিয়ার পরিকল্পনার তথ্য পেয়েছে।

 

গোয়েন্দাদের ধারণা, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি এবং ইউক্রেনকে পশ্চিমা সহায়তা বন্ধে সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে মস্কো।

 

সম্প্রতি পোল্যান্ডে একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র পড়া এবং জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন পাওয়ার পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ওই ড্রোনটির সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল অস্ত্র বহনকারী একটি ইউক্রেনীয় বিমান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

পোল্যান্ড ও বাল্টিক দেশগুলোর নেতারা কয়েক মাস ধরেই ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। বৃহস্পতিবার লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্টাস কাউনাস অভিযোগ করেন, মস্কো ইউক্রেনীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে বাল্টিক অঞ্চলে ফলস ফ্ল্যাগ হামলা চালিয়ে ইউরোপকে বিভক্ত করার চেষ্টা করতে পারে।

 

এদিকে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও রাশিয়ার কথিত উসকানিকে আরও বড় হুমকির আইসবার্গের চূড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

তবে ন্যাটোর বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ স্থল হামলার সম্ভাবনা এখনো কম বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ কোনো সদস্যদেশে হামলা হলে ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আর্টিকেল ৫ কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর আওতায় একটি সদস্যের ওপর হামলাকে পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

তাই গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হচ্ছে, সামরিকভাবে ন্যাটোকে পরাজিত করা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় পুতিন বরং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, নাশকতা, সাইবার হামলা ও অন্যান্য ‘হাইব্রিড’ কৌশলকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন।

 

ন্যাটোর মুখপাত্র কর্নেল মার্টিন ও’ডনেল বলেছেন, জোটটি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত এবং যেকোনো পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরকযুক্ত ড্রোন পাওয়ার ঘটনাতেও পাল্টা সন্ত্রাসবিরোধী তদন্ত শুরু হয়েছে। বিমানবন্দরটি জার্মানি ও ন্যাটোর সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, ন্যাটোর বিরুদ্ধে এ ধরনের সীমিত উসকানির মূল উদ্দেশ্য হতে পারে জোটের অভ্যন্তরে উত্তেজনা ও বিভাজন তৈরি করা এবং সদস্যদেশগুলোকে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত রাখা। সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ

 

পূর্বকোণ/আরআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট