চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৭ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

জাপানি যে শব্দগুলোর একক অনুবাদ নেই, তবে গভীরতা অনেক

জাপানি যে শব্দগুলোর একক অনুবাদ নেই, তবে গভীরতা অনেক

অনলাইন ডেস্ক

৭ আগস্ট, ২০২৬ | ২:২৭ অপরাহ্ণ

ভাষার কাজ কেবল যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের চিন্তাভাবনা ও মানসিক অনুভূতি প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিনের নানা অভিজ্ঞতায় মানুষ এমন অনেক অনুভূতির মুখোমুখি হয়, যা একটি নির্দিষ্ট শব্দে প্রকাশ করা প্রায় অসম্ভব। জাপানি ভাষায় এমন কিছু বিশেষ শব্দ ও ধারণা রয়েছে, যা মানুষের মনের গভীর ও সূক্ষ্ম আবেগগুলোকে খুব সহজেই সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। প্রকৃতির রূপ, সম্পর্কের গভীরতা, নীরবতার অর্থ কিংবা সময়ের প্রবাহের সঙ্গে জড়িত এসব অনুভূতি বিশ্বজনীন হলেও অন্য কোনো ভাষায় এদের একক অনুবাদ খুঁজে পাওয়া যায় না।

মানুষের জীবনের ও চারপাশের সবকিছু যে ক্ষণস্থায়ী, সেই বাস্তবতার পেছনের সৌন্দর্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয় ‘মনো নো অ্যাওয়ারে’। একটি সুন্দর ফুল ফুটে ঝরে যাওয়ার মুহূর্ত কিংবা একটি আনন্দের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার সূক্ষ্ম বিষাদ আমাদের জীবনকে আরও নিবিড়ভাবে উপভোগ করতে শেখায়। একই সুর ধরা পড়ে ‘হাকানাই’ শব্দে, যা মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে ভঙ্গুরতা কোনো দুর্বলতা নয় বরং চিরস্থায়ী নয় বলেই সূর্যাস্ত বা শৈশবের স্মৃতির মতো বিষয়গুলো এতো মূল্যবান।

অন্যদিকে গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে ঝরে পড়া রোদের আলোকে জাপানিরা বলে ‘কোমোরেবি’। এই শব্দটির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর বার্তা; জীবনের নানাবিধ বাধা ও পরিবর্তনের ফাঁক গলেই আসলে প্রশান্তির আলো প্রকাশ পায়। আবার ভাষায় প্রকাশ করা যায় না এমন গভীর ও বর্ণনাতীত অনুভূতিকে বলা হয় ‘ইউগেন’, যা ব্যাখ্যার অতীত হয়েও মনকে দারুণভাবে নাড়া দেয়।

শুধু দৃশ্যমান রূপ নয়, শব্দহীনতা ও শূন্যতার গুরুত্বও জাপানি এসব ভাবনায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। কথা কিংবা সঙ্গীতের বিরতিতে যে শূন্য স্থান তৈরি হয়, তাকে বলা হয় ‘মা’, যা কেবল নীরবতা নয় বরং পুরো ভাবটিকে অর্থপূর্ণ করে তোলে।

আবার কোলাহলহীন যে স্তব্ধতা মনকে গভীর শান্তি এনে দেয়, তার নাম ‘শিজুকেইসা’। এর পাশাপাশি যোহাকু শব্দটির মাধ্যমে ক্যানভাস কিংবা জীবনের সেই খালি জায়গাটিকে নির্দেশ করা হয়, যা চারপাশের অন্য বিষয়গুলোকে স্পষ্ট ও সুন্দর করে তোলে। সর্বোপরি, পৃথিবীর কোনো কিছুই যে নিখুঁত বা চিরস্থায়ী নয়, সেই সত্যকে সানন্দে মেনে নেওয়ার দৃষ্টিভঙ্গিকে বলা হয় ‘ওয়াবি-সাবি’। নিখুঁত হওয়ার অহেতুক চেষ্টা ছেড়ে জীবনের স্বাভাবিক ত্রুটিগুলোর ভেতরেই প্রকৃত সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়ার এই মানসিকতা প্রতিটি মানুষকে নতুন করে বাঁচতে শেখায়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

পূর্বকোণ/রেহেনুমা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট