চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

ট্রেনের দুই কর্মীকে মারধরের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ট্রেনের দুই কর্মীকে মারধরের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

অনলাইন ডেস্ক

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৮:১৪ অপরাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের কাউন্টারে হামলা চালিয়ে দুই কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নেতার নাম নাজমুল হুদা সানি, যিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। ঘটনার জেরে কয়েকঘন্টা টিকিট কাউন্টার বন্ধ থাকায় পোহাতে হয় নানা ভোগান্তি।

 

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে। হামলার পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দুপুর ২টা পর্যন্ত কাউন্টারে টিকিট বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখেন রেলওয়ে কর্মীরা। এই ঘটনায় কাউন্টার ম্যানেজার মহিন উদ্দিন সজিব এবং বুকিং ক্লার্ক মো. কাউসার হোসেন আহত হন বলে জানা গেছে।

 

আহত কর্মীদের সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত নাজমুল হুদা সানি দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনে তিতাস ট্রেনের এজেন্টশিপ বাগিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। কিন্তু ট্রেনের মূল ইজারাদার প্রতিষ্ঠান তাতে রাজি না হওয়ায় সানির মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম হয়। এরই জেরে মঙ্গলবার সকালে বুকিং ক্লার্ক কাউসারকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সানি। পরবর্তীতে সরাসরি কাউন্টারে প্রবেশ করে কাউসারকে বেধড়ক চড়-থাপ্পর মারতে শুরু করেন তিনি। এ সময় তাকে বাঁচাতে গেলে কাউন্টার ম্যানেজার সজিবকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কর্মীরা বাধ্য হয়ে কাউন্টার বন্ধ করে দেন।

 

অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে আনা মারধরের সমস্ত অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হুদা সানি। তার দাবি, স্টেশনের কাউন্টার কর্মীরা সিন্ডিকেট করে নিয়মিত কালোবাজারিদের কাছে অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট বিক্রি করে আসছেন। সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিট না পাওয়ার এমন বহু অভিযোগ পেয়ে তিনি বিষয়টি জিগ্যেস করতে কাউন্টারে গিয়েছিলেন। সেখানে কেবল বাকবিতণ্ডা হলেও মারধরের কোনো ঘটনাই ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

 

ঘটনা সম্পর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. সাকির জাহান জানান, টিকিট বিক্রির সময় কাউন্টার ম্যানেজার ও বুকিং ক্লার্কের ওপর হামলার খবর তারা শুনেছেন। তবে ঘটনার পরপরই কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে কাউন্টার বন্ধ করে চলে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, কাউন্টার কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কিছু সময় বন্ধ রাখার পর কাউন্টার পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।

 

 

পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট