চট্টগ্রাম শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

ভিক্ষুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বৌদ্ধবিহারে ডাকাতি

ভিক্ষুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বৌদ্ধবিহারে ডাকাতি

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৮:৩৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার একটি বৌদ্ধবিহারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ হাসিমপুর বিজয়া রাম বিহারে এ ঘটনা ঘটে। মুখোশ পরা অস্ত্রধারীরা বিহারের ভিক্ষুকে জিম্মি করে টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করেছে বলে জানিয়েছে বিহার কর্তৃপক্ষ।

বৌদ্ধবিহারটির ভিক্ষু জ্ঞান রক্ষিত জানিয়েছেন, ধর্মীয় কার্যাদি করার জন্য ভোররাত ৪টার দিকে তিনি তাঁর কক্ষের দরজা খোলেন। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি দা-কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর কক্ষে ঢুকে পড়েন। তাঁকে কক্ষের খাটে বসিয়ে রেখে অস্ত্রধারীরা বলেন, ‘চুপ করে বসে থাকেন, কথা বললে সমস্যা হবে।’ এরপর তাঁর কাছ থেকে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেন অস্ত্রধারীরা। পরে আলমারি খুলে প্রায় ৩০ হাজার টাকা, দানবাক্স ভেঙে আনুমানিক ২০ হাজার টাকা এবং ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি সাউন্ড বক্সসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় তারা।

ভিক্ষু জ্ঞান রক্ষিত বলেন, ‘ডাকাতরা যাওয়ার সময় কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। পরে পাশের কক্ষের অন্য লোকজনকে ডেকে দরজা খোলার ব্যবস্থা করেছি।’

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভোরে পেয়ারা বাগানে যাওয়ার সময় ফখরুল, নাজিম উদ্দিন, মো. ইউছুফ, মো. আবছার, আবদুল নবি এবং অলি আহমদ বুচুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিহারের দেয়ালের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে রাখে ডাকাতদল। অলি আহমদ বুচু জানান, ভোররাতে একটি হাইস গাড়িতে করে ডাকাতদল আসে এবং তাদের মাঝপথে আটক করে। ডাকাতি শেষে মোবাইলগুলো ফেরত দিয়ে কোনো চালাকি না করে দ্রুত বাগানে চলে যেতে বলে তারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ডাকাতদের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল। প্রত্যেকের পরনে ছিল কালো হাফপ্যান্ট ও কালো গেঞ্জি এবং মুখ ঢাকা ছিল মুখোশে। তারা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল।

 

এ ঘটনায় বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সঞ্চয়ন বড়ুয়া গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এমন ডাকাতি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিষয়টি তিনি বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছেন এবং এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে দ্রুত চিহ্নিত ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘বৌদ্ধবিহারে ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। বিহার কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে গত এক মাসে চন্দনাইশে বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি বড় ডাকাতি ও চুরির ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১২ আগস্ট বৈতলীতে, ১৬ ও ২৩ আগস্ট দক্ষিণ গাছবাড়িয়ায়, ২৬ আগস্ট সাতবাড়ীয়ায় এবং সর্বশেষ ৬ সেপ্টেম্বর দোহাজারীতে বিভিন্ন বসতঘরে হানা দিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে সংঘবদ্ধ চক্র। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট