চট্টগ্রাম সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

অভিযানে জব্দ করা ড্রেজার মেশিন ইউএনও অফিসের পিওনের বাড়িতে রাখার অভিযোগ

লামা-আলীকদম সংবাদদাতা

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৯:৩৫ অপরাহ্ণ

অবৈধভাবে বালু  উত্তোলন বন্ধে  লামা উপজেলা প্রশাসন গত কয়েকমাসে বেশ কয়েকটি মোবাইল কোর্ট  চালিয়ে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ১২টি ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ করে । জব্দ করা ১২টি ড্রেজার মেশিন সরকারি নিয়ম মেনে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উম্মুক্ত নিলাম দেয়ার সময় ধার্য্য করা হয়।

 

নিলামে অর্ধশত ব্যবসায়ী অংশ নেন। উপজেলা প্রশাসন নির্ধারিত সরকারি ধার্য্য মূল্য না পাওয়ায় আজ ড্রেজার মেশিন গুলো নিলাম করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসের অফিস সহায়ক মো. সোহেল বালু উত্তোলনের ভালো মেশিন গুলো রাতের আঁধারে তার বাড়িতে সরিয়ে নিয়ে তার জায়গায় জরাজীর্ণ ও নষ্ট মেশিন অদলবদল করেছে।

 

এ বিষয়ে নিলামে অংশ নেয়া ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম জানান, মোবাইল কোর্টে যেসব ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছিল, সেই মেশিনগুলো মধ্যে কয়েকটি এখানে নেই। ভালো মেশিন গুলো রাতের আঁধারে সরিয়ে ফেলে জরাজীর্ণ ও নষ্ট কয়েকটি ছোট মেশিন রাখা হয়েছে। কিছুদিন আগেও ভালো মেশিন গুলো ছিল। পরে আমরা খবর নিয়ে জানতে পারি উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক বর্তমানে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ঘনিষ্টভাজন মো. সোহেল রাতের আঁধারে দুইটি ভালো ড্রেজার মেশিন সরিয়ে নষ্ট ও খারাপ ছোট দুইটি মেশিন এখানে রাখে। সরিয়ে ফেলা মেশিন গুলো বর্তমানে অফিস সহায়ক মো. সোহেল এর বাড়িতে রয়েছে।

 

নিলামে অংশ নেয়া আরেক ব্যবসায়ী মো. আইয়ুব অভিযোগ করেন, খারাপ, নষ্ট ও জরাজীর্ণ মেশিন গুলোর দাম হাঁকানো হয় ৪ লাখ টাকা। যা ২ লাখ টাকাও যাবেনা। ভালো মেশিন গুলো কোথায় এমন প্রশ্ন করার পরে নিলামের স্থানে হট্টগোল লেগে যায়। দুপুরে আমরা কয়েকজন ব্যবসায়ী খুঁজতে গিয়ে ২টি ড্রেজার মেশিন উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক মো. সোহেল এর বাড়িতে খুঁজে পাই। সোহেলের বাড়ি ইউএনও অফিসের ৫০০ গজের মধ্যে। মোবাইল কোর্টে জব্দ মেশিন গুলো সরকারি সম্পদ। এগুলো একজন অফিস স্টাফ কিভাবে নিয়ে যায় ?

 

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, গত কয়েকমাস আগেও জব্দ ড্রেজার মেশিন নিলাম হয়। সেখান থেকে ভালো মেশিন বর্তমান ইউএনও সাহেব রেখে দিয়ে তার বাসভবনে জেনারেটর বানিয়ে ফেলে। যদিও উক্ত জেনারেটর ক্রয়ে প্রকল্প দেখানো হয়েছিল।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো সোহেল এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

 

জানতে চাইলে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ‘একই রকম ড্রেজার মেশিন অনেক থাকতে পারে। কিভাবে নিশ্চিত হলেন সোহেলের বাড়িতে থাকা ড্রেজার মেশিনটি উপজেলা প্রশাসনের? একটি অসাধু সিন্ডিকেট সরকারি কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ইস্যু তৈরি করছে।’

 

পূর্বকোণ/রফিকুল/আরআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট