চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে চরম ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ৩ পুলিশ সদস্য এবং মামলার বাদীসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োজিত জেবল হোসাইন (২৩) নামের এক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া মূল আসামি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনকেও (২৮) শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
রবিবার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার চরণদ্বীপ মসজিদ ঘাটা এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর করলডেঙ্গা শিকদার বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে আবদুল মান্নান নামের এক ব্যক্তি আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় বিজ্ঞ আদালত মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। রবিবার রাত ১১টার দিকে পুলিশ ও মামলার বাদী আবদুল মান্নান মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করতে যৌথ অভিযান চালান। অভিযান চলাকালে আসামিপক্ষের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মহিউদ্দিনকে ধরতে গেলে সে পুলিশ সদস্যদের হাতে কামড় ও আঁচড় দেয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আসামি মহিউদ্দিন পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে যায়। তবে পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি, পরবর্তীতে সে পুলিশের কাছে ধরা দেয়।
এই ধস্তাধস্তির ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ পুলিশ সদস্যসহ ৫ জন। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন— এসআই আবদুল হালিম (৪৮), এএসআই মাসুম বিল্লাহ (৩৫) ও কনস্টেবল হাসানুজ্জামান (৩২)। তারা রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কৌশিক দাশ। এছাড়া আহত অন্য দুজনের মধ্যে রয়েছেন মামলার বাদী আবদুল মান্নান (৫৫) এবং মোক্তার হোসেন (৪০)।
এদিকে, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রাম পুলিশ সদস্য জেবল হোসাইনকে আটক করেছে পুলিশ। ওসি মোজাফফর হোসেন জানান, আটক জেবল হোসাইন মূল মামলার আসামি না হলেও তিনি পালিয়ে যাওয়া আসামি মহিউদ্দিনের আত্মীয়। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে
পূর্বকোণ/সিজান

















