বিয়ের স্বপ্ন নিয়ে দিন শুরু করেছিলেন অপু দাশ (২৯)। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে রাউজানের বাগোয়ান এলাকার গঙ্গা মন্দিরে তাকে পাত্রী দেখানো হয়। বিয়ের বিষয়ে পরিবারের মধ্যে প্রাথমিক কথাবার্তাও হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই সেই আনন্দ পরিণত হয় শোকে। হাসপাতালের দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অপু। বিয়ের পিঁড়িতে আর বসা হলো না তার।
শুক্রবার রাত ৮টায় রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন কাতালপীর শাহ দরগাহের সামনে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত অপু দাশ রাঙ্গুনিয়ার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়া গ্রামের বাঘার বাড়ির মৃত বাদল দাশের একমাত্র ছেলে। তিনি রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকার দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে দায়িত্ব পালন শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন অপু। কিছুক্ষণ পর তার দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে তাকে মোটরসাইকেলসহ সড়কের ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়।
গুরুতর আহত অপুকে উদ্ধার করে প্রথমে দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে রাত ১১টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক (মার্কেটিং) এপেক্সিয়ান মৃনাল কান্তি বড়ুয়া বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অপুকে সড়কের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। কিভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা তখন নিশ্চিত হওয়া যায় নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো একটি গাড়ি তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেছে। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
মৃনাল কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘অপু আমাদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত কর্মকর্তা ছিলেন। তার এমন আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে পুরো হাসপাতাল পরিবার শোকাভিভূত। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, শুক্রবার বিকেলেই বাগোয়ানের গঙ্গা মন্দিরে তার বিয়ের জন্য পাত্রী দেখা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে বিয়ের কথাবার্তাও হয়েছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই সব আনন্দ শোকে পরিণত হয়েছে।’
অপুর মৃত্যুর খবরে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তার মা শোকে ভেঙে পড়েছেন। যে বাড়িতে বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন চলছে কান্না ও আহাজারি।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। নিহত অপুর মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ওসি আরও বলেন, দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায় নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অজ্ঞাত কোনো যানবাহনের ধাক্কায় ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পূর্বকোণ/নুসরাত/এএইচ

















