কক্সবাজার শহরের উপকূলীয় এলাকা সমিতিপাড়ায় আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়ার তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ও শুঁটকি মহাল। এতে প্রায় ৭ থেকে ৮টি পাকা স্থাপনা ও ৭ শতাধিক শুঁটকি শুকানোর চাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাতাসের তোড়ে কয়েক টন শুঁটকি মাছ উধাও হয়ে যাওয়ায় প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে জোহরের নামাজের পরপরই আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়া আঘাত হানলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরে হঠাৎ প্রচণ্ড গতিতে তীব্র বাতাস শুরু হয়। মাত্র কয়েক মিনিটের এই তাণ্ডবে সমিতিপাড়ার প্রায় ৭-৮টি পাকা ঘরবাড়ির ছাদ ও দেয়াল ভেঙে পড়ে। একই সাথে সংলগ্ন শুঁটকি মহালের শত শত চাতাল ও অবকাঠামো লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। চাতালে শুকাতে দেওয়া বিপুল পরিমাণ শুঁটকি বাতাসের তোড়ে উড়ে গিয়ে সমুদ্রের পানিতে ও আশপাশের কয়েক শ মিটার এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সেখান থেকে শুঁটকি কুড়িয়ে নিতে দেখা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঝোড়ো বাতাসে চাতালের অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। মূলধন ও শুকানো মাছ হারিয়ে বহু ব্যবসায়ী এখন নিঃস্ব।
এ বিষয়ে কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বলবৎ রয়েছে এবং কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। স্থানীয়দের ‘টর্নেডো’র দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি টর্নেডো না হলেও ৩ নম্বর সতর্কসংকেতের প্রভাবে বয়ে যাওয়া প্রবল ঝোড়ো বাতাসের কারণে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে।”
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

















