আগামী বছরেই চালু হচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রথম স্যুয়ারেজ প্রকল্প। ইতোমধ্যে প্রকল্পে কাজ শেষ করা হয়েছে ৭৮ শতাংশ। চালু হলে এটি শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারাদেশের মধ্যে হবে প্রথম আধুনিক স্যুয়ারেজ প্রকল্প। এতে নগরীর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মানুষ স্যুয়ারেজের আওতায় আসবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।
ওয়াসার চিফ ইঞ্জিনিয়ার মাকসুদ আলম পূর্বকোণকে বলেন, ‘ওয়াসার মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় পুরো শহরকে ৬টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রণীত প্ল্যানের সুপারিশ অনুযায়ী জোন-১ এর জন্য এই স্যুয়ারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জোন-১ এর অধীনে রয়েছে নগরীর হালিশহর, সাগরিকা, সল্টগোলা ক্রসিং, শেখ মুজিব রোড, কদমতলী, সদরঘাট, আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট, লালখান বাজার, নিউমার্কেট, কোতোয়ালী, জামালখান, আন্দরকিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকা। এতে উপকৃত হবে প্রায় ২০ লাখ মানুষ। নগরীর হালিশহরে চট্টগ্রাম ওয়াসার ১৬৩ একর জায়গাতে স্যুয়ারেজ প্রকল্পটি স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পের মাধ্যমে বাসাবাড়ির পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ করে পরিশোধনের পর সেই পানি সাগরে ফেলে দেওয়া হবে।’ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম ওয়াসার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ‘স্যুয়ারেজ’। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ওয়াসার স্যুয়ারেজের প্রথম প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। বাংলাদেশ সরকারের সম্পূর্ণ অর্থায়নে প্রকল্পের জন্য প্রথমবার ব্যয় ধরা হয়েছিল তিন হাজার ৮০৮ কোটি ৫৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। কিন্তু পরে প্রকল্পটি সংশোধিত প্রস্তাব ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদিত হলে তাতে ব্যয় বাড়ে আরো এক হাজার ৪১০ কোটি টাকা। তাতে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৫ হাজার ২১৯ কোটি টাকা। বর্তমানে দুইভাগে চলছে প্রকল্পের কাজ। একটি হচ্ছে-পাইপলাইন বসানো এবং অপরটি হালিশহরে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ। প্রকল্পের অধীনে মোট গভীর-অগভীর পয়োপাইপলাইন বসানো হবে ২৭২ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে বসানো হয়েছে ১৮২ কিলোমিটার পাইপলাইন। অবশিষ্ট ৯০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কাজ করছে ওয়াসা। অপরদিকে হালিশহরে প্রকল্প এলাকায় পয়োশোধনাগার, ফিক্যাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট (মানুষের মল পরিশোধনাগার) প্ল্যান্ট নির্মাণে সিভিলের কাজ শেষ হয়েছে ৯৫ শতাংশ এবং ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল কাজ হয়েছে ৬০ শতাংশ। এছাড়া প্রকল্পের অধীনে গৃহ পয়োসংযোগ হবে ২৮ হাজার। বর্তমানে সংযোগ প্রদান করা হয়েছে ১৬ হাজার গৃহে। সবমিলে স্যুয়ারেজের প্রথম প্রকল্পের এ পর্যন্ত ৭৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। আগামী ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে ওয়াসা।
ওয়াসা সূত্র জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিকাদার সংস্থা তায়ং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড এ প্রকল্পের কাজ করছে। একইসাথে চলছে গ্রাহক পর্যায়ে পয়োসংযোগ লাইন প্রদানের কাজও। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর নগরীর ২০ লাখ মানুষ স্যুয়ারেজের আওতায় আসবে। ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম ওয়াসার এটিই হচ্ছে প্রথম স্যুয়ারেজ প্রকল্প।
ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম পূর্বকোণকে বলেন, ‘২০২৭ সালের জুনের মধ্যে ডাইন স্টিম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রকল্পটি চালু করার জন্য নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বর্ষাকালে রাস্তা কর্তন করে পাইপলাইন বসানোর কাজ কঠিন হয়ে পড়ে। প্রকল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জও এটি। তাই আসন্ন শুকনো মওসুমে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতার মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। বর্তমানে প্রকল্পের ৭৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ দ্রুততার সঙ্গে যথাসময়ে শেষ করা হবে।’
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম পূর্বকোণকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পটি চলতি বছরের জুনে শেষ করার সময় নির্ধারিত ছিল। নানা কারণে তা আর হয়ে উঠেনি। পরে এটি সময় বৃদ্ধি করে ২০২৭ সালের জুনে নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে এটির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ২০২৭ সালে স্যুয়ারেজ প্রকল্পটি চালু করা হবে। প্রকল্পটি চালু হলে নগরীর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মানুষ স্যুয়ারেজের আওতায় আসবে। এটি শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারাদেশের মধ্যে হবে প্রথম আধুনিক স্যুয়ারেজ প্রকল্প।’
পূর্বকোণ/মিফতা

















