সৌদি আরব অভিযোগ করে,পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতিরা ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা।
জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি জানান ,সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়। পরে ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ মক্কার দক্ষিণাঞ্চলে গিয়ে পড়ে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ড্রোনটি সংরক্ষিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী সেটিকে ধ্বংস করে দেয়।
সৌদি জোটের এই মুখপাত্র বলেন, পবিত্র দুই মসজিদ এবং হজযাত্রীদের নিরাপত্তা তাদের কাছে ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় বিষয়।আল-মালিকি এ ঘটনাকে মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো ও বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি করার চেষ্টা হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। সতর্ক করে তিনি বলেন, মুসলিমদের পবিত্র দুই মসজিদ (মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববি) ও মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে, মক্কা নগরীতে মঙ্গলবার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে সৌদি আরব সরকার। এবারই প্রথম মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হলো।
তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই সতর্কবার্তা তুলে নেওয়া হয়। একই সময়ে সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জেদ্দা ও তায়েফ শহরেও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়।
জোটের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের এটি দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলে দাবি করে জোট।
তবে হুথিদের এক কর্মকর্তা সৌদি জোটের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সংগঠনটির মুখপাত্র হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি ‘পুরোনো মিথ্যা’, যা আগেও ব্যবহার করা হয়েছে এবং তা আর কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
পবিত্র কাবা শরিফের অবস্থান হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ২০০ কোটি মুসলিমের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই মক্কা শহর। গত মে মাসে ১৭ লাখের বেশি এবং গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ১১.৭ মিলিয়নের বেশি পুণ্যার্থী সেখানে উমরাহ পালন করেছেন, যার ফলে সাম্প্রতিক সংঘাত আগামী দিনের তীর্থযাত্রাকে প্রভাবিত করবে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পূর্বকোণ/মিফতা
















