চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুতে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের

ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুতে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেস্ক

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১১:১২ অপরাহ্ণ

২০২৭ সালে ঢাকা-নিউইয়র্ক (জেএফকে) রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যেগে সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে দেশটির বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

 

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচনায় বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন, ঢাকা–নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ এবং পর্যটন খাতে বিনিয়োগের বিষয় উঠে আসে।

 

সাক্ষাতে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আকাশপথে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে একটি এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে।

 

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে বিশ্বখ্যাত লিগ্যাসি এয়ারলাইনসে পরিণত করতে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি ইতোমধ্যে হয়েছে। এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। তবে বোয়িংয়ের তৈরি উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ দ্রুত করা জরুরি।

 

ঢাকা–নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা মূল্যায়নের (আইএএসএ) ক্যাটাগরি-১ মর্যাদাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় আগামী বছর এ রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

 

পর্যটন খাত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে সরকার।

 

রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে। পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

 

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী বলেও জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ঢাকা–নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

 

এ ছাড়া বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রচারে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র রাষ্ট্রদূতের নিজ উদ্যোগে সফরের বিষয়েও সাক্ষাতে আলোচনা হয়।

 

পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট