চট্টগ্রাম বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যা: ১২ আসামি গ্রেপ্তার: আদালতে আজাদের জবানবন্দি

আদালতে আজাদের জবানবন্দি

সাতকানিয়ায় ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা: ১২ আসামি গ্রেপ্তার

সাতকানিয়া সংবাদদাতা

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৩:৩৮ অপরাহ্ণ

সাতকানিয়ায় জাহেদুল আলম (৩৩) ওরফে ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে মো. আজাদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য, জাহেদুলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫ থেকে ৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৩০ আগস্ট রাত ১০টায় পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাজালিয়া-শীলঘাটা সড়কের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর আগে রাত ৮টার দিকে পুরানগড় নতুনহাট এলাকায় জাহেদুলকে মারধর করে একটি ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশকে কেন্দ্র করে জাহেদুলের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ তৈরি হয়। ওই ভিডিও প্রকাশ করেন মামলার আসামি জয়নাল আবেদীন মানিক। এ নিয়ে জাহেদুল মানিক ও তার সহযোগীদের হুমকি দেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরে রাত ১০টার দিকে জাহেদুল তাঁর সঙ্গে থাকা মো. ওয়াহিদকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাজালিয়া স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন। ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে তাঁদের পথরোধ করা হয়। এ সময় একদল ব্যক্তি দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জাহেদুলের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ওয়াহিদও আহত হন।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে জেলা পুলিশ। পুলিশের দাবি, আসামিদের কয়েকজন চট্টগ্রামের বাইরে ও ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমে পাহাড়তলী থানা এলাকা থেকে মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টায় ঢাকার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে আরও ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জসিম উদ্দিন (৫০), জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬), মো. রিদুয়ান (২৬), মো. টিপু (৩৫), আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০), আব্দুল্লাহ আল তুষার (৩০), খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক (৫২), মো. রবিউল হোসেন (২১), আবুল কাশেম (৩৮), হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব (২৮), মো. হেলাল ও মো. আজাদ।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মো. আজাদকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁর জবানবন্দি, গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অবশিষ্ট আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, “পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মামলার ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মামলার এজাহারনামীয় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পূর্বকোণ/আদর/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট