কক্সবাজারের পেকুয়া পৌরসভার উত্তর মেহেরনামা ঠাণ্ডার পাড়া এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে বদিউল আলম সওদাগরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় দুর্বৃত্তরা ঘরে থাকা প্রায় ১৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ ৩ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে গেছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বদিউল আলম সওদাগর পৌরসভার উত্তর মেহেরনামা ঠাণ্ডার পাড়া এলাকার মৃত এলহাদাতের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার রাতের কোন এক সময় চোরের দল কৌশলে বাড়িতে প্রবেশ করে আলমারি ও মূল্যবান জিনিসপত্র রাখা স্থান তছনছ করে। পরে তারা প্রায় ১৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ ৩ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের সঞ্চিত স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ হারিয়ে তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বদিউল আলম সওদাগরের ছেলে ফোরকান জানান, তার মা অসুস্থ হওয়ায় তিনি চট্টগ্রামে চিকিৎসা করতে যান মা ও স্ত্রীকে নিয়ে। সেই সুবাদে বাড়িতে কেউ না থাকায় বাড়ির সবকিছু লুট করে নিয়ে যায়।
মেয়ের জামাই রাসেল বলেন, আমি প্রবাসে থাকি বাড়িতে আমার স্ত্রী একলা থাকে বলে আমার সব স্বর্ণ শ্বশুর বাড়িতে রাখি। চুরের তাণ্ডবে আমার অর্জিত সব স্বর্ণ শেষ।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা চুরি-ডাকাতি রোধে রাতের টহল জোরদার এবং অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এ স্থানীয় ইউপি সদস্য দিদারুল ইসলাম জানান, গত রাতে বদিউল আলম সওদাগরের বাড়িতে ভয়াবহ চুরি সংঘটিত হয়। এতে ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৩ লাখ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় বলে পরিবার পক্ষে তাকে জানানো হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একই এলাকার বাদশা নামে একব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে, রবিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাতে পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা এলাকায় এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে গভীর রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতদের হামলায় গৃহবধূ ও তার ভাসুর গুরুতর আহত হন। ডাকাতরা নগদ ৫ লাখ টাকা ও প্রায় এক ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনায় আহতরা হলেন- সৌদি প্রবাসী আমির হোসেনের স্ত্রী রোজিনা আক্তার (৪৫) এবং তার বড় ভাই জাকের হোসেন (৬৫)। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া একইরাতে পৌরসভার প্রস্তাবিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডের (সদর ইউনিয়নের বর্তমান ৭ নম্বর ওয়ার্ড) আব্দুল হামিদ সিকদারপাড়ার সৌদি প্রবাসী জমির আলম ও মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) রেজাউল করিমের বসতবাড়িতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি করে টাকা-স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়।
একের পর এক চুরি-ডাকাতি হওয়ায় পেকুয়ায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা চুরি-ডাকাতি রোধে রাতের টহল জোরদার এবং অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
পূর্বকোণ/এমরান/এএইচ















